দিনভর ব্যাপক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। এখন ভোট গণনার পর ফলাফলের অপেক্ষা।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে পৃথক ২১টি কেন্দ্রে চলে ভোট গ্রহণ। ভোট গ্রহণ শেষে ব্যালট বাক্সগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে সিনেট ভবনে পাঠানো হয়েছে, সেখানে গণনা করা হবে। ভোট গণনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি স্থানে এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে সরাসরি দেখানো হবে। এখানেই ফল ঘোষণা করা হবে।
এর আগে নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল। বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হলের অতিথি কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন প্যানেলটির সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী।
একই সঙ্গে বিকেলের দিকে সম্প্রীতির ঐক্য, সংশপ্তক পর্ষদ ও স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদও ভোট বয়কটের ঘোষণা দেয়। ৫ স্বতন্ত্র প্রার্থীও এক পর্যায়ে ভোট বর্জন করে।
নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দীর্ঘ ৩৩ বছর পর আজ জাকসু ও হলসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম, বামপন্থীদের তিনটি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দুটি প্যানেলসহ মোট ৮টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। নির্বাচনে মোট ১৭৮ জন জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদের জন্য লড়েন ১৭৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ৯ জন এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। একইসঙ্গে ২১টি হল সংসদের ৩১৫টি পদের জন্য ৪৭৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে যাত্রা শুরুর পর ১৯৭২ সালে জাকসু প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ৫৩ বছরের যাত্রাপথে নির্বাচন হয়েছে মাত্র ৯ বার। সর্বশেষ ১৯৯২ সালের নির্বাচনে ছাত্রদল একচেটিয়া জয় পায়। কিন্তু ১৯৯৩ সালে সিন্ডিকেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের ওপর জাকসুর ছাত্রদের একাংশের হামলার ঘটনায় তৎকালীন উপাচার্য জাকসু ভেঙে দেন। সেই থেকেই বন্ধ ছিল কার্যক্রম।
আরও পড়ুন: ভোট শেষ হওয়ার এক ঘন্টা আগে সরে দাঁড়ালো ছাত্রদল
