, | |

মূলপাতা আন্তর্জাতিক

হেলিকপ্টারে পালালেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী, গন্তব্য কোথায়?


রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে হেলিকপ্টারে করে পালিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। ছবি: সংগৃহীত
প্রকাশের সময় :৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৪:৪৯ : অপরাহ্ণ

সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে নেপালের সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি হেলিকপ্টারে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। ইতোমধ্যেই রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে দেশটির সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে নিরাপদ গন্তব্যের দিকে রওনা দিয়েছেন তিনি। তবে তিনি কোন দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন তা এখনো স্পষ্ট নয়।

আজ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

নেপালি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কেপি শর্মা দুবাই অথবা ভারতে আশ্রয় নেবেন। তার জন্য হিমালয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমান প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার পর কেপি শর্মাকে ক্ষমতা ছাড়ার প্রস্তাব দেন দেশটির সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল। সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে দেশ থেকে নিরাপদে চলে যাওয়ার জন্য সহায়তা চান কেপি শর্মা।

সেনাবাহিনীর সূত্রে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেল প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলিকে পদত্যাগের আহ্বান জানান। অলি সেনাপ্রধানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং দেশের ক্রমাবনত পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দেওয়ার অনুরোধ জানান। এর জবাবে জেনারেল সিগদেল বলেন, সেনাবাহিনী কেবল তখনই হস্তক্ষেপ করে দেশকে স্থিতিশীল করতে পারবে, যদি প্রধানমন্ত্রী অলি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দেন। সেনা সূত্র আরও জানায়, অলি পদত্যাগ করলেই সেনাবাহিনী দেশের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রস্তুত।

 

এর আগে আজ সকাল থেকে কেপি শর্মা অলির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমে হাতের বাইরে চলে যাচ্ছিল। ছাত্ররা তার বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় নেপালের প্রেসিডেন্টের বাসভবনেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশটির একের পর এক নেতা-মন্ত্রীর বাড়িতেও অগ্নিসংযোগের খবর আসতে থাকে। ফলে চাপের মুখে নতিস্বীকার করতে হয় কেপি শর্মা অলিকে।

রাজধানী কাঠমান্ডুতে ব্যাপক সহিংস দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের দুই দিন পর আজ পদত্যাগ করেন কেপি শর্মা। এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত ও ৪০০ জনেরও বেশি গুরুতর আহত হয়েছে। এই ঘটনার দায় নিয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রী পদত্যাগ করেন।

অন্যদিকে, সরকারের অনান্য মন্ত্রীদেরও তাদের বাসভবন থেকে হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নিচ্ছে নেপালি সেনাবাহিনী। বেশ কয়েকজন মন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা পরপরই এই পদক্ষেপ নেয় সেনাবাহিনী।

প্রসঙ্গত, গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে নেপালে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেয়া হয়।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) প্রথমে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হলেও একপর্যায়ে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে পার্লামেন্টের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে শুরু হয় সংঘাত।

এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঠমান্ডুতে কারফিউ জারি করে প্রশাসন। এই আন্দোলনকে ‘জেন-জি রেভল্যুশন’ নাম দেন বিক্ষোভকারীরা। কারফিউ উপেক্ষা করে আজ সকাল থেকে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নামেন। এ সময় তারা নেপালি কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রী ও রাজনীতিকের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। আক্রমণের শিকার হয় অলি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার বাসভবনও। রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয়ও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন: সহিংস বিক্ষোভের মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর