, | |

মূলপাতা ক্যাম্পাস রাজনীতি

ডাকসু নির্বাচন: কার মুখে ফুটবে বিজয়ের হাসি?


ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদপ্রার্থী ওপর থেকে বামে মো. আবিদুল ইসলাম খান, আবু সাদিক কায়েম, উমামা ফাতেমা, আব্দুল কাদের ও শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি।
প্রকাশের সময় :৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৯:০২ : পূর্বাহ্ণ

সব জল্পনা-কল্পনা ও শঙ্কার অবসান ঘটিয়ে বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উৎসবমুখর ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। এই নির্বাচনের ফলাফলের দিকে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী নয়, পুরো দেশের মানুষ তাকিয়ে আছেন। একাধিক প্যানেলের আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কার মুখে ফুটবে বিজয়ের হাসি তা নিয়ে হিসেব কষছেন অনেকে। বিশেষ করে ভিপি ও জিএস পদ নিয়ে নজর সবার।

নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ২০ হাজার ৮৭৩ এবং ছাত্রী ১৮ হাজার ৯০২ জন। নির্বাচনে একজন ভোটারকে মোট ৪১টি ভোট দিতে হবে।

নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদে ২৮টি ও হল সংসদের ১৩টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৭১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ৪৫ জন আর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনে পাঁচটি প্যানেল প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এগুলো হলো-ছাত্রদল নেতৃত্বাধীন প্যানেল, ছাত্রশিবির নেতৃত্বাধীন ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেল, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ নেতৃত্বাধীন প্যানেল, উমামা ফাতেমা নেতৃত্বাধীন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেল এবং বামপন্থী সাত সংগঠনের নেতৃত্বাধীন প্রতিরোধ পর্ষদ প্যানেল।

ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ী হলে শিক্ষার্থীদের জন্য কী কী করবে প্রচারণার সময় তা ইশতেহার আকারে প্রকাশ করেছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও স্বতন্ত্র প্যানেলগুলো। ইশতেহারে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম–গেস্টরুম সংস্কৃতির স্থায়ী অবসানের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসন, খাদ্য ও পরিবহন সমস্যার সমাধান, রেজিস্ট্রার ভবনে ভোগান্তির অবসানের জন্য ডিজিটালাইজেশন, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রার্থীরা।

প্রচারণার সময় আচরণবিধি লঙ্ঘনের বড় কোনো অভিযোগ, কোনো ধরনের সহিংসতা না হওয়ায় অনেকটা স্বস্তি আছে এই নির্বাচনকে ঘিরে। যদিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ রীতিমতো ঝড় তুলেছে শেষের কয়েক দিন। এরপরও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ভোটগ্রহণ নিশ্চিতে সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নির্বাচকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস এলাকায় মোতায়েন রয়েছে দুই হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য।

নির্বাচন পরিচালনা করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত ১০ সদস্যের নির্বাচন কমিশন। প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

জানা গেছে, নির্বাচনে ভোট গণনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে এলইডি স্ক্রিন বসানো হবে। এই স্ক্রিনে ভোট গণনা সরাসরি দেখানো হবে, যা ডাকসু নির্বাচনের ইতিহাসে এক নতুন সংযোজন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৭ বার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০১৯ সালের নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর এবং সাধারণ সম্পাদক হন ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) গোলাম রাব্বানী। তবে নানা অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে সে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

আরও পড়ুন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পালিয়েছেন ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর