রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশের সময় : ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ২:১৯ অপরাহ্ণ
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রামে আয়োজিত জশনে জুলুসে পদদলিত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন।
আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে নগরীর মুরাদপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা আইয়ুব আলী (৬০) এবং নগরীর কালামিয়া বাজার এলাকার সাইফুল ইসলাম (১৩)।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন রাজনীতি সংবাদকে বলেন, জুলুসে পদদলিত হয়ে আহত ৬ জনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। একজনকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাকি ৩ জনকে ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অরাজনৈতিক সংগঠন আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট এই জুলুসের (শোভাযাত্রা) আয়োজন করে। সকাল ১০টায় ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে জুলুস শুরু হয়। জুলুস উপলক্ষে সকাল থেকে লাখো মানুষ নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুরাদপুর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সমবেত হন। সকাল ৯টায় জামেয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে শুরু হওয়া এই জুলুস মুরাদপুর হয়ে জিইসি মোড় পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে। জিইসি মোড় থেকে জুলুস আবার ষোলশহর জামেয়া মাদ্রাসা মাঠে এসে শেষ হয়।
লাখো মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ জুলুসে নেতৃত্ব দেন পাকিস্তানের ছিরিকোট দরবার শরীফের পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (মা.জি.আ)। তার সঙ্গে ছিলেন শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (মা.জি.আ) ও সৈয়্যদ মুহাম্মদ মেহমুদ আহমদ শাহ (মা.জি.আ)।
জুলুসে ভক্তদের জন্য নগরীর বিভিন্ন মোড়ে শরবত, পানি ও তাবাররুকের ব্যবস্থা রাখা হয়। ছোট শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও এই সেবায় অংশ নেন। পুরো জুলুস অতিথি আপ্যায়ন ও ভ্রাতৃত্বের মহোৎসবের রূপ নেয়। চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক এই জুলুস এখন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় শোভাযাত্রা হিসেবে পরিচিত।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতিবছর ১২ রবিউল আউয়াল-এ আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় এই জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত এ জুলুসে নেতৃত্ব দেন পাকিস্তানের ছিরিকোট দরবার শরীফের পীর সৈয়দ মোহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রা.)। সৈয়দ মোহাম্মদ তৈয়ব শাহের মৃত্যুর পর ১৯৮৬ সাল থেকে তার সন্তান সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ ও সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ এ জুলুসে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
আরও পড়ুন: ‘নুরাল পাগলা’র লাশ কবর থেকে তুলে জ্বালিয়ে দেওয়া হলো কেন?
