বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১৩ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ৮ রমজান, ১৪৪৭

মূলপাতা দেশজুড়ে

‘নুরাল পাগলা’র লাশ কবর থেকে তুলে জ্বালিয়ে দেওয়া হলো কেন?



রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় : ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৯:০৩ অপরাহ্ণ

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে নিজেকে ‘ইমাম মাহাদি’ দাবি করা নুরুল হক ওরফে ‘নুরাল পাগলা’র লাশ কবর থেকে তুলে নিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ তৌহিদি জনতা। এছাড়া নুরাল পাগলার দরবার শরিফ ও বাড়িতেও হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় নুরাল পাগলার ভক্তদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়, ভাঙচুর করা হয় পুলিশ ও ইউএনওর গাড়ি।

আজ শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জুড়ান মোল্লাপাড়ায় এলাকায় দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগল বহু বছর আগে নিজ বাড়িতে গড়ে তোলেন দরবার শরিফ। আশির দশকের শেষের দিকে নিজেকে ইমাম মাহদী দাবি করে আলোচনায় আসেন তিনি। ওই সময়ে তার বিরুদ্ধে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়। পরে ১৯৯৩ সালের ২৩ মার্চ জনরোষ এড়াতে তিনি মুচলেকা (অঙ্গীকারনামা) দিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন। এর কিছুদিন পর তিনি আবার ফিরে এসে তার দরবার শরিফের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন।

গত ২৩ আগস্ট ভোরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ওই দিনই সন্ধ্যায় এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে তার প্রথম জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে তার ভক্তানুরাগীদের অংশগ্রহণের দরবার শরিফের ভেতরে দ্বিতীয় জানাজা নামাজ শেষে রাত ১০টার দিকে তাকে মাটি থেকে প্রায় ১২ ফুট উঁচু স্থানে বিশেষ কায়দায় দাফন করা হয়। পবিত্র কাবা শরিফের আদলে তার কবরের রঙ করা হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৌহিদী জনতা। তাদের আন্দোলনের ফলে কবরের রঙ পরিবর্তন করা হয়।

 

এ বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠক হয় তৌহিদী জনতা ও নুরাল পাগলের পরিবারের সদস্যদের। পরে এ বিষয়ে দুই দফা সংবাদ সম্মেলন করে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তৌহিদী জনতা। কবর নিচে নামানো না হলে কবর ভেঙে ফেলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার জুমার পর গোয়ালন্দ আনসার ক্লাব মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশ করে তৌহিদী জনতা। বিক্ষোভ থেকে হামলা চালানো হয় নুরাল পাগলের দরবারে। পাল্টা আক্রমণ করেন নুরাল পাগলের ভক্তরা। ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ তুমুল সংঘর্ষে দুই পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হন। এক পর্যায়ে নুরাল পাগলের দরবারে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে লাশ কবর থেকে তুলে গোয়ালন্দ পদ্মার মোড়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ওপর নিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

মো. আল আমিন নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘নুরাল পাগলা একটা সময় নিজেকে ইমাম মাহাদি দাবি করেছেন। পাশাপাশি তিনি খোদাও দাবি করেছেন। তার কর্মকাণ্ড ছিল শরিয়তবিরোধী। এসব ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মেনে নিতে পরে নাই। যে কারণে জনতা আজ নুরাল পাগলার দরবার ভেঙে দিয়েছে। বাড়িঘর ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে তার লাশ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে ফেলেছে।’

তবে নুরাল পাগলার ছেলে মেহেদী নূর জিলানী গত বুধবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমার বাবা ইমাম মাহাদির দ্বীন প্রচারক ছিলেন। মৃত্যুর পর তার ওছিয়ত মোতাবেক কিছুটা উঁচু করে ইসলামের বিধান মেনে দাফন করা হয়েছে। ১২ ফুট উঁচু করার অভিযোগ সত্য নয়। তিন থেকে চার ফুট উঁচু হতে পারে। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে।’

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে হামলা চালানো হয় পুলিশের ওপর, ভাঙচুর করা হয় পুলিশ ও ইউএনওর গাড়ি। এতে ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে সেনাবাহিনী ও র‌্যাব এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হামলায় ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম।

আরও পড়ুন: জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবার ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর