দেশের শতবর্ষী বাণিজ্য সংগঠন চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আজ সোমবার চিটাগাং চেম্বারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় (বাণিজ্য সংগঠন-১) কর্তৃক গঠিত নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম এই তফসিল ঘোষণা করেন।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৪-২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা যাবে। আর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর চিটাগং চেম্বার ঘিরে ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নামেন। চেম্বারে স্বেচ্ছাচারিতা ও পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার অভিযোগে নগরীর আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ করেন ব্যবসায়ীরা। এ পরিস্থিতিতে চাপে পড়ে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর চিটাগাং চেম্বারের বিনাভোটে নির্বাচিত সকল পরিচালক পদত্যাগ করেন।
এরপর নতুন নির্বাচন আয়োজনের লক্ষে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর চিটাগাং চেম্বারে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মুহাম্মদ আনোয়ার পাশাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
চিটাগাং চেম্বারের নির্বাচনে ২৪টি পরিচালক পদে নির্বাচন হয়। কিন্তু নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় না। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় প্যানেলভিত্তিক। অবশ্য প্যানেল ছাড়াও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে পারেন প্রার্থীরা।
নির্বাচনে চারটি ক্যাটাগরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এগুলো হলো-অর্ডিনারি, অ্যাসোসিয়েট, গ্রুপ মেম্বার এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন।
নির্বাচনে ২৪ জন পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পরিচালনা পর্ষদের একজন সভাপতি, একজন সিনিয়র সহসভাপতি ও একজন সহসভাপতি নির্বাচিত হবে।
চিটাগাং চেম্বারের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ব্যবসায়ী মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। কারণ দীর্ঘ ১২ বছর পর চেম্বারের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হবে। ভোটের লড়াইয়ে জিতে ১১৯ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ চেম্বারের নেতৃত্বে কে আসবেন তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
চিটাগাং চেম্বারের সর্বশেষ ভোটাভুটি হয়েছিল ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ। ওই নির্বাচনে মাহবুবুল আলম-নুরুন নেওয়াজ সেলিম পরিষদ জয়লাভ করে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলো মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহীম-আবদুস সালাম ঐক্য পরিষদ। নির্বাচনে মাহবুবুল আলম-নুরুন নেওয়াজ সেলিম পরিষদ থেকে ২০ জন এবং মোরশেদ-সালাম পরিষদ থেকে মাত্র চারজন পরিচালক নির্বাচিত হন।
এর পরের পাঁচ মেয়াদের নির্বাচনে কোনো ভোটাভুটি হয়নি। চট্টগ্রাম-১১ আসনের (বন্দর-পতেঙ্গা) আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ লতিফ চিটাগাং চেম্বারকে কুক্ষিগত করে রাখেন। তিনি গত ৯ বছর চেম্বারে ভোট বন্ধ করে স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।
আরও পড়ুন: চিটাগাং চেম্বারে মেম্বারশিপ নিয়ে ভয়াবহ জালিয়াতি
