, | |

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

চিটাগাং ক্লাব থেকে সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদের মরদেহ উদ্ধার


সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশিদ।
প্রকাশের সময় :৪ আগস্ট, ২০২৫ ২:৩৮ : অপরাহ্ণ

চিটাগাং ক্লাব থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম হারুন-অর-রশিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে চিটাগাং ক্লাবের গেস্ট হাউজ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তিনি কীভাবে মারা গেলেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

চিটাগাং ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার রাতে হারুন-অর-রশিদ ক্লাবের একটি রুমে রাত্রিযাপনের জন্য ওঠেন। আজ সকাল পর্যন্ত তার কক্ষ থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় ক্লাবের স্টাফরা বিচলিত হন। পরে দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে কক্ষের দরজা খুলে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

 

খবর পেয়ে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) একটি চিকিৎসক দল ক্লাবে এসে তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

চিটাগাং ক্লাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, কক্ষের মধ্যেই রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সাবেক সেনাপ্রধান হারুন গতকাল রোববার বিকেলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছেন। বিকেল ৪টায় তিনি চিটাগাং ক্লাবের একটি ভিআইপি কক্ষে ওঠেন। ঘণ্টাখানেক পর তিনি ক্লাব থেকে বেরিয়ে রাত পৌনে ১১টায় ফেরেন। কক্ষে ঢোকার আগে তিনি ডেস্কে গিয়ে ব্রেকফাস্টের সময় জেনে নেন। সকাল ১০টা পর্যন্ত দরজা না খোলায় কক্ষের পেছনের জানালা দিয়ে দেখা যায়, বিছানার ওপর তিনি নিথর অবস্থায় পড়ে আছেন।

চিটাগাং ক্লাব থেকে সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদের মরদেহ উদ্ধার

হারুন-উর-রশিদের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায়। তবে তিনি ঢাকায় বসবাস করতেন।

সাবেক সেনাপ্রধানের নিকটাত্মীয় এনাম আহমেদ বলেন, আজ উনার একটি মামলায় আদালতে হাজিরার কথা ছিল। সেজন্যই মূলত তিনি ঢাকা থেকে এসেছিলেন। চিটাগাং ক্লাবের ভিআইপি রুমে একাই ছিলেন। সম্ভবত স্ট্রোক করে মারা গেছেন।

হারুন-উর-রশীদের বয়স প্রায় ৭৫ বছর। তিনি বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ২০০০ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২০০২ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত তিনি দেশের দশম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অবসরের পর তিনি কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ফিজিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর হারুন উর রশিদ ডেসটিনির সঙ্গে ব্যবসায় যুক্ত হন। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলও খেটেছিলেন।

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর