ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষ্য দিয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের হামলায় গুরুতর আহত হওয়া খোকন চন্দ্র বর্মণ।
আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাব্যুনালে নিজের ওপর ঘটে যাওয়া নৃশংশ আচরণসহ যাত্রাবাড়ী থানার সামনে তার চোখের সামনে ঘটা মানুষ হত্যার বিবরণ দিয়েছেন।
আদালতে খোকন চন্দ্র বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে পুলিশ গুলি করে আমার বাম চোখ, নাখ ও মুখ নষ্ট করেছে। হাজার হাজার মানুষকে মারা হয়েছে। আমার চোখের সামনে অনেককে গুলি করা হয়েছে। আমাকে আহত করাসহ হাজার হাজার মানুষ হত্যার জন্য দায়ী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের (সাক্ষীর ভাষায় কাউয়া কাদের), আসাদুজ্জামান খান কামাল, শামীম ওসমান ও আব্দুল্লাহ আল মামুন।’
এসময় প্রসিকিউশন থেকে তার কাছে ‘কাউয়া কাদের’ বলতে কাকে বোঝাচ্ছেন জানতে চাওয়া হয়। তখন তিনি একাধিকবার বলেন, ‘কাউয়া কাদের বলতে ওবায়দুল কাদেরকেই বোঝাচ্ছি।’ এসময় ট্রাইব্যুনালে হাস্যরসও হয়।
খোকন চন্দ্র তার জবানবন্দিতে বলেন, ‘যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনের একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশকে চলে যেতে বলে। ওই সময় পুলিশ থানার দিকে চলে যায়। আন্দোলনকারীরা দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে থাকে। সে সময় খবর আসে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছে। কিছুক্ষণ পর সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার পর পুলিশ বের হয়ে পাখির মতো গুলি করে। যে যেভাবে পারে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমিসহ কয়েকজন ফ্লাইওভারের নিচে পিলারের পেছনে পালাই।’
তিনি বলেন, সে সময় পুলিশ তাদের টার্গেট করে গুলি করে। গুলি তার চোখ, নাক ও মুখে লাগে। যাতে তাঁর মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে যায়। এ সময় সাক্ষী খোকন চন্দ্র বর্মণ মাস্ক খুলে মুখ দেখান।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন খোকন চন্দ্র বর্মণকে জেরা করেন। এ সময় চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, গত ১০ জুলাই এ মামলায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
সেদিন ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার করেন সাবেক এই আইজিপি।
উল্লেখিত আসামিদের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ১ হাজার ৪০০ জন ছাত্র-জনতাকে হত্যা, হত্যার উসকানি, প্ররোচনা ও নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘হিটলার বেঁচে থাকলে হাসিনার কাছে মিথ্যার পিএইচডি করতেন’
