জুলাই শহীদদের স্মরণে দেশে প্রথমবারের মতো নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন হয়েছে নারায়ণগঞ্জে। কিন্তু সেখানে দেখা গেছে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। মঞ্চের চেয়ারে বসেছিলেন জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া পরিবারের স্বজনেরা। আর তাদের নিচে মঞ্চের মেঝেতে বসেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচ উপদেষ্টা।
আজ সোমবার বিকেলে নগরীর হাজীগঞ্জ এলাকায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এমন ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে শহীদদের প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি তাদের পরিবারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়।
মঞ্চের মেঝেতে বসা পাঁচ উপদেষ্টা হলেন-আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন শেষে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই আন্দোলনে গণহত্যার বিচার পূর্ণ গতিতে এগিয়ে চলেছে। সেখানে কোনো গাফিলতি থাকবে না। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, এই সরকারের শাসনামলেই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে।
শহীদ পরিবারের উদ্দেশে আইন উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের মনে সবসময় একটা আর্তি থাকে, একটা ক্রন্দন থাকে-এত বড় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হলো, এমনভাবে আমাদের লোকদেরকে হত্যা করা হলো, আমাদের ভাইদের চোখ কেড়ে নেওয়া হলো, অঙ্গহানি করা হলো… জঘন্য, বীভৎস, নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার কোথায়? আমি আপনাদেরকে দৃঢ় কণ্ঠে জানাতে চাই, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হবেই।
অনুষ্ঠানে শিল্প এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, বিভিন্ন জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গণভবনকে একটি ফ্যাসিবাদবিরোধী জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ চলছে। ৫ আগস্টের আগে এটির উদ্বোধন করা হবে। এটা স্বৈরাচারের ঠিকানা। আমরা এই ঠিকানাকে সংরক্ষণ করতে চাই, দেখাতে চাই— এখানে ফ্যাসিবাদ কীভাবে মানুষকে অত্যাচার করতো।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমাদের শিক্ষার্থী, ছাত্র-জনতা দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে, বৈষম্যমুক্ত করেছে। তাদের ত্যাগের মাধ্যমে আমরা স্বৈরাচারমুক্ত দেশ পেয়েছি। এই জুলাইকে স্মরণ করে আজ আমরা সবাই একত্রিত হয়েছি। জুলাইকে আমাদের সবসময় স্মরণ করতে হবে।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এই নারায়ণগঞ্জে ৫৬ জন শহীদ হয়েছেন এবং বুলেটের সামনে সেদিন তারা বুক পেতে দিয়েছিলেন। আর এই ৫৬ শহীদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সন্তান ছিলেন ২১ জন। তাদের স্মরণে এবং তাদের পরিবার যে এত বড় আত্মত্যাগ করেছে, তা স্মরণে আজ নারায়ণগঞ্জে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বরগুনায় এনসিপির সমাবেশে জনসমুদ্র
