, | |

মূলপাতা আইন-আদালত

সেই দুদক কর্মকর্তা শরীফকে চাকরি ফেরত দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ


শরীফ উদ্দিন
প্রকাশের সময় :৯ জুলাই, ২০২৫ ১:৫৩ : অপরাহ্ণ

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বরখাস্ত হওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিনকে চাকরি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায় পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে পাওনা বেতন-ভাতাসহ সব সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে বলা হয়েছে।

আজ বুধবার বিচারপতি রেজাউল হাসান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে শরীফের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সালাউদ্দিন দোলন।

রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় মো. শরীফ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি।’

আদালতে শরীফের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সালাউদ্দিন দোলন।

২০২২ সালের ১৩ মার্চ চাকরি ফেরত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন দুদকের সাবেক উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন। শরীফের পক্ষে ব্যারিস্টার মিয়া মোহাম্মদ ইশতিয়াক রিটটি দায়ের করেন।

২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি শরীফ উদ্দিনকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। দুদকের তখনকার চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে অপসারণের বিষয়টি জানানো হয়।

শরীফ তার মেয়াদকালে বিভিন্ন খাতে অনিয়মের খবর প্রকাশের জন্য আলোচিত হন। তিনি প্রায় সাড়ে ৩ বছর দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। সে সময় এনআইডি সার্ভার ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি ভোটার করার অভিযোগে ২০২১ সালের জুনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একজন পরিচালক, ৬ কর্মীসহ আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেছিলেন।

 

এ মামলার পরপর ২০২১ সালের ১৬ জুন তাকে চট্টগ্রাম থেকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়। পরে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের চাকরি বিধিমালা ৫৪ এর ২ ধারায় কমিশনের চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতাবলে শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। সে সময় বিষয়টি নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।

শরীফকে অপসারণের আদেশ প্রত্যাহার এবং ২০০৮ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) বিধিমালার ৫৪ (২) বিধি বাতিলের দাবিতে তার সহকর্মীরা দুদকের প্রধান কার্যালয়সহ কমিশনের অন্যান্য দপ্তরে মানববন্ধন করেন, যা নজিরবিহীন।

এরপর চাকরি ফেরত চেয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে আবেদন করেন শরীফ। দুর্নীতি দমন কমিশন চাকরি বিধিমালা-২০০৮ এর ৪৮ বিধি অনুযায়ী অপসারণের আদেশ পুনঃনিরীক্ষা করে অপসারণের আদেশ প্রত্যাহার করার আর্জি জানানো হয় সেখানে।

শরীফ ২০১১ সালে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন পাস করেন। ২০১৪ সালে তিনি দুদকে যোগদান করেন।

সাড়ে সাত বছরের চাকরিজীবনের প্রথম ছয় বছরই বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে (এসিআর) শরীফ উদ্দিনকে দুদকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ‘অতি উত্তম’ হিসেবে মূল্যায়ন করে। তাকে তদন্তকাজে ‘অভিজ্ঞ’ এবং ‘উদ্যমী ও দক্ষ কর্মকর্তা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে দুদক।

আরও পড়ুন: আন্দোলনকারীদের দেখামাত্রই গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন হাসিনা

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর