অন্যায় প্রভাব খাটিয়ে প্রহসনের নির্বাচন দেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ সোমবার বিকেল ৩টার দিকে তাকে আদালতে আনা হয়। এসময় তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
শুনানিতে বিচারক সাবেক সিইসি নুরুল হুদাকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি শপথ ভঙ্গ করেছেন?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘না, শপথ ভঙ্গ করিনি।’
সাবেক এই সিইসি বলেন, ‘৫ জন লোক নিয়ে নির্বাচন কমিশন। ১৬ লাখ জনবল নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করা হয়। ঢাকায় বসে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নির্বাচন দেখার সুযোগ নেই।’
তখন বিচারক বলেন, ‘আপনি তো শপথ নিয়েছেন, ফেয়ার ইলেকশন দেবেন। ভোটের অনিয়মের কারণে আপনি কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?’
তখন নুরুল হুদা বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসার ফলাফল ঘোষণা করেন। হাইকোর্ট নির্বাচন বন্ধ করতে পারেন। নির্বাচন কমিশন কিছু করতে পারে না। নির্বাচন বিতর্কিত হলেও কমিশন দায়ী হতে পারে না।’
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক শামসুজ্জোহা সরকার মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আওয়ামী লীগ আমলে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আসামি করে গতকাল রোববার মামলা করেছে বিএনপি। মামলায় মোট ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহউদ্দিন খান বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
আরও পড়ুন: সাবেক সিইসি নুরুল হুদাকে ‘জুতার মালা’ পরিয়ে পুলিশে সোপর্দ
