রংপুরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাড়িতে বাড়িতে দরজা-জানালায় ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
আজ বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে রংপুর নগরীর সেনপাড়া স্কাইভিউ বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে।
জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে।
ঘটনার পরপরই পাল্টাপাল্টি অবস্থান নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড় ও শহিদ মিনার এলাকাসহ সেনপাড়ায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ সতর্ক টহল শুরু করেছে।
এর আগে, আজ বিকেলে রংপুরে আসেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি সেনপাড়ায় স্কাইভিউতে সাংবাদিকদের সঙ্গে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও জাতীয় পার্টির অবস্থান নিয়ে সাক্ষাৎকার দেন। জি এম কাদেরের রংপুরে অবস্থান ঘিরে হঠাৎ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভের ডাক দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, রাত ৯টার সময় রংপুর প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি সেখান থেকে সেনপাড়া পর্যন্ত যায়। এ সময় তারা জাতীয় পার্টির বিগত সরকার আমলের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে। মিছিলটি গ্র্যান্ড হোটেল মোড় এলাকায় পৌঁছালে নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে নেতাদের বাধা উপেক্ষা করে মিছিলটি সিনাপাড়ায় জিএম কাদেরের পৈত্রিক বাসা স্কইভিউয়ের সামনে এলে বিক্ষুব্ধ মিছিলকারীরা তার বাসায় হামলা চালায়। এ সময় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত না থাকায় মিছিলকারীরা নির্বিঘ্নে হামলা চালিয়ে তারা আবার ফিরে আসতে থাকে।
হামলার সময় বাড়িতে দরজা-জানালায় ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। একটি গলির ভেতর থেকে একদল দুর্বৃত্ত জিএম কাদেরের বাসার সামনে রাখা কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে জাতীয় পার্টিও নেতাকর্মীরা সশস্ত্র প্রস্তুতি নিয়ে জিএম কাদেরের বাসার চারদিকে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ নিয়ে নগরজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রাত পৌনে ১০টার দিকে) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা টাউনহলের দিকে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা সেনপাড়া ও সেন্ট্রাল রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জি এম কাদের বলেন, আমি বিশ্রাম করছিলাম। নেতাকর্মীরা চলে গেছে-এ সময় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা-ভাঙচুর করে মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এদিকে ঘটনাস্থলে এসে রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা পার্টি অফিসে ছিলাম। হঠাৎ জানতে পারলাম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা আমাদের চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তারের দাবিতে শহরে বিক্ষোভ করছেন। পরে তারা এনসিপিসহ অন্য একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জি এম কাদেরের বাসভবনে হামলা করেছেন। আমরা সুস্থ ধারার রাজনীতি করতে চাই। কিন্তু রংপুরে আজকে যারা এই আগুন জ্বালালো, এখন তা নেভানো যাবে না।
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির সংগঠক আলমগীর কবির বলেন, এ হামলার সাথে এনসিপির কোন সম্পর্ক নেই। রংপুরে কোন কমিটি নেই। কেউ সেখানে গিয়ে থাকলে সে ব্যক্তিগতভাবে গিয়েছে।
এ ব্যাপারে রংপুর কোতয়ালী থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আরও পড়ুন: জাপানে গিয়ে যে প্রশ্নের উত্তর দিলেন না ড. ইউনূস
