, | |

মূলপাতা জাতীয় নাগরিক পার্টি

৫ আগস্ট জনগণ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছে: এনসিপি


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
প্রকাশের সময় :২ মে, ২০২৫ ৬:৪৪ : অপরাহ্ণ

৫ আগস্ট জনগণ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে আয়োজিত সমাবেশে তিনি মন্তব্য করেন। এতে এনসিপির ঢাকা মহানগরের শত শত নেতাকর্মী অংশ নেন।

সমাবেশ এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে আমাদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে, এটা আমাদের সামষ্টিক ব্যর্থতা। বিচার ও সংস্কারের জন্যই মানুষ রাস্তায় নেমেছিল।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জাতিসংঘের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগ এদেশে ১৪০০ মানুষকে হত্যা করেছে। কিন্তু কিছু সাংবাদিক শেখ হাসিনাকে গণহত্যাকারী বলতে চান না। তাদের উদ্দেশে বলি, আপনারা সাংবাদিক নন, আপনার হাসিনার দোসর।’

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা জুলাই ঘোষণাপত্র দিতে বলেছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে সেই ঘোষণাপত্র এখনও দেওয়া হয়নি। ভুলে গেলে চলবে না, শহীদ ও আহতদের রক্তের উপর দাড়িয়ে আপনারা এদেশে রাজনীতি করতে পারছেন; ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা নতুন সংবিধানের দাবি জানিয়েছি। গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে। শহীদ ও আহতদের পরিবারের মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।’

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ২০০৯ সালে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত করেছে। তারা ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে নিরাপদ আলেম সমাজের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। একইভাবে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং সর্বশেষ জুলাইয়ে ছাত্রজনতার আন্দোলনে হামলা, গুলি ও গণহত্যা চালিয়েছে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এটি একটি ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসী সংগঠন। আওয়ামী লীগের বিচার ও সংস্কারের আগে এই দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। গণহত্যার বিচার চলাকালীন তাদের নিবন্ধন বাতিল করে সাংগঠনিক ও রাজনৈতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।’

সমাবেশে প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘শুধু একটা কথাই বলবো, ড. ইউনূস আপনাকে আমরা আহত এবং শহীদদের রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আমরা কোনো অনুরোধ করছি না, সরাসরি সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিচ্ছি আওয়ামী লীগকে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষিদ্ধ করতে হবে।’

 

এই এনসিপি নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিগত ১৫ বছরে যে গণহত্যা, গুম, খুন করেছে সেটা প্রমাণিত। সুতরাং কোনো যদি কিন্তু ছাড়াই এই গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির অপর মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘আজ থেকে ৯ মাস আগে আমরা হাত উঁচু করে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের রায় দিয়েছিলাম। ঠিক নয় মাস পরে এই বাইতুল মোকাররমের সামনে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা রায় দেব। আজকে মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচু করে আপনারা বলবেন এই আওয়ামী লীগ পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে কি না? এই আওয়ামী লীগ শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে কি না, জুলাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে কি না। এই আওয়ামী লীগ খুনিদের দল কি না? তাহলে এই খুনিদের দল আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারবে কি না? তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ চাই কি না, শেখ হাসিনার ফাঁসি চাই কি না। আমাদের এই যুদ্ধ ততদিন চলবে, আওয়ামী লীগ যতদিন না নিশ্চিহ্ন হচ্ছে।’

সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক তারিকুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন, যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দীন মাহাদী, যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ, যুগ্ম সদস্যসচিব হুমায়রা নূর, যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকার, যুগ্ম সদস্যসচিব তাহসীন রিয়াজ, সংগঠক রফিকুল ইসলাম আইনী, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আলী নাছের খান, সংগঠক মোস্তাক আহমেদ শিশির, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাইফুল্লাহ হায়দার, কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ আতাউল্লাহ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ খালেদ সাইফুল্লাহর বাবা কামরুল হাসান।

আরও পড়ুন: ‘মানবতার জননী’ থেকে ‘জুলুমের রাণী’, হাসিনার উত্থান-পতনের গল্প

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর