গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসন ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হলো ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচি। এতে ফিলিস্তিনের সমর্থনে একটি ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়েছে।
আজ শনিবার কর্মসূচির মূল মঞ্চে দাঁড়িয়ে এ ঘোষণাপত্র পাঠ করেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
ঘোষণাপত্রে ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য মুসলিম বিশ্বের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সেইসঙ্গে অবিলম্বে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধের দাবিও জানানো হয়। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে ‘এক্সেপ্ট ইসরায়েল’ শব্দটি ফের ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। ইসরায়েলি পণ্য বয়কটেরও আহ্বান জানানো হয়।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, পশ্চিমা শক্তিবলয়ের অনেক রাষ্ট্র সরাসরি দখলদারকে অস্ত্র, অর্থ ও কূটনৈতিক সহায়তা দিয়ে এই গণহত্যাকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে। এই বিশ্বব্যবস্থা দখলদার ইসরাইলকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে বরং রক্ষা করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো-
১. জায়নবাদী ইজরায়েলের গণহত্যার বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে নিশ্চিত করতে হবে।
২. যুদ্ধবিরতি নয়, গণহত্যা বন্ধে কার্যকর ও সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৩. ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী ভূমি ফিরিয়ে দেয়ার জন্য বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে হবে।
৪. পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
৫. ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা, এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত করতে হবে।
এর আগে, ‘প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট বাংলাদেশ’-এর ব্যানারে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ স্লোগানের সঙ্গে দলে দলে মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে থাকেন। তাদের হাতে ফিলিস্তিন ও বাংলাদেশের পতাকা, মুখে ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, ‘ফিলিস্তিনে হামলা কেন, জাতিসংঘ জবাব দে’ ‘ইসরায়েলি পণ্য, বয়কট-বয়কট’ বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।
কর্মসূচিতে একত্রিত হন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শিল্পী, কবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখরা।
এ সময় জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, ‘এই জনসমুদ্র প্রমাণ করে, আমাদের একজনের হৃদয়ে বাস করে একেকটা ফিলিস্তিন। মার্চ করতে গিয়ে লাথি-গুতা সব খেয়েছি, তার পরও আজ বুঝেছি বাংলাদেশের মানুষ ফিলিস্তিন ও আল-আকসার পক্ষে।’
মিজানুর রহমান আজহারী উপস্থিত জনতার উদ্দেশে অল্প কিছুক্ষণ বক্তব্য দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তার দেওয়া ‘ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানে কণ্ঠ মিলান লাখো মানুষ।

এ ছাড়া ‘নারয়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, ‘দিন ইসলাম, দিন ইসলাম’, ‘ফিলিস্তিন ফিলিস্তিন, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘আমার ভাই শহীদ কেন, জাতিসংঘ জবার চাই’, ‘ওয়ান টু থ্রী ফোর-জেনোসাইড নো মোর’ বিভিন্ন স্লোগান দেন তিনি।
দলমত নির্বিশেষে সকলে এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যা বন্ধে দৃঢ় অবস্থান নেন এবং সাহসী কণ্ঠে প্রতিবাদ জানান। একইসঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং এই আগ্রাসনের নেপথ্যে থাকা অন্যান্য কুশীলবদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে বিচারের দাবিও জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করেন।
মোনাজাতে তিনি বলেন, ইসরায়েল ফিলিস্তিনে যে নৃশংসতা চালাচ্ছে, তা মানবতার ওপর চরম আঘাত। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, যেন তিনি নির্যাতিত মুসলমানদের রক্ষা করেন এবং ফিলিস্তিনকে স্বাধীনতার আলো দেখান।
আরও পড়ুন: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো মানুষের ঢল, কানায় কানায় পূর্ণ
