, | |

মূলপাতা জাতীয়

ড. ইউনূসের অনুরোধ রাখলেন ট্রাম্প


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস
প্রকাশের সময় :১০ এপ্রিল, ২০২৫ ৯:৩০ : পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ইস্যুতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি দিয়েছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। চিঠিতে তিন মাসের জন্য বাংলাদেশের ওপর আরোপিত ৩৭ শতাংশ শুল্ক প্রস্তাব স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছিলেন তিনি। অবশেষে ড. ইউনূসের সে অনুরোধ সাড়া দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত ড. ইউনূসের অনুরোধে ৩ মাসের জন্য স্থগিত করেছেন তিনি।

গত ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট বরাবর পাঠানো ওই চিঠিতে প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশকে সময় দেওয়া হোক, যাতে আমদানি বাড়িয়ে ও শুল্ক কাঠামো সংস্কার করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়।

চিঠির শেষাংশে ড. ইউনূস অনুরোধ জানিয়ে লিখেছেন, বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি পণ্যে আরোপিত পাল্টা শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, আপনি আমাদের এই অনুরোধ গ্রহণ করবেন।

অনুরোধে সাড়া দেওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে গতকাল বুধবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফাইড পেজে একটি বার্তা পোস্ট করা হয়।

সেখানে প্রধান উপদেষ্টা লিখেন, ধন্যবাদ, মি. প্রেসিডেন্ট। শুল্ক বৃদ্ধি ৯০ দিনের জন্য বন্ধ রাখার জন্য আমাদের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার বাণিজ্য এজেন্ডার সমর্থনে আমরা আপনার প্রশাসনের সাথে কাজ চালিয়ে যাবো।

 

এদিকে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, আমরা বিশ্বের সমস্ত দেশকে জানিয়েছিলাম, পাল্টা ব্যবস্থা না নিলে তোমরা পুরস্কৃত হবে। সুতরাং, যারা আলোচনায় আসতে চায়, আমরা তাদের কথা শুনতে প্রস্তুত।

বেসেন্ট বলেন, এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত দেয় যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাণিজ্যকে গুরুত্ব দেন এবং আমরা সৎভাবে আলোচনা করতে চাই।

অন্যসব দেশের ওপর পালটা শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত করলেও চীনের ওপর উল্টো বাড়তি শুল্কের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপ করায় চীনা পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

প্রসঙ্গত, গত ২ এপ্রিল রোজ গার্ডেনে বিশ্বব্যাপী আমদানি পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এরপরই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। চীনের বাইরে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশ। এগুলোর মধ্যে ভিয়েতনামে ৪৬ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ায় ৪৯ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপিত হয়েছে, যা এই অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া থাইল্যান্ডে ৩৬ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ায় ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ২৪ শতাংশ, ফিলিপাইনে ১৭ শতাংশ এবং সিঙ্গাপুরে ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশ ওপরও আরোপ করা হয় ৩৭ শতাংশ বাড়তি শুল্ক।

এই ঘোষণার পরপরই প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক চিঠিতে তিন মাসের জন্য এই বাড়তি শুল্প আরোপের সিদ্ধান্ত স্থগিতের অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্পকে। শেষ পর্যন্ত সে পথেই হেঁটেছেন ট্রাম্প।

আরও পড়ুন: পিছু হটলেন ট্রাম্প, চীন ছাড়া সব দেশের ওপর আরোপিত শুল্ক স্থগিত

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর