, | |

মূলপাতা জাতীয়

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন
প্রকাশের সময় :১২ আগস্ট, ২০২৪ ৩:২৩ : অপরাহ্ণ

আওয়ামী লীগকে দল গোছানোর পরামর্শ দেওয়ায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

আজ সোমবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহসমন্বয়ক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মুহাম্মদ তার ফেসবুক টাইমলাইনে একটি পোস্ট দিয়ে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেনকে উদ্দেশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই সহসমন্বয়ক বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে দল গোছানোর প্রস্তাব দেওয়ার জন্য ছাত্ররা আপনাকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বানায়নি। বরং গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিন।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে হুঁশিয়ার করে মুসাদ্দিক আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, ‘ছাত্র-জনতা আপনাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। তারা চাইলে সেটি ছিনিয়েও নিতে পারে।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে ‘সতর্ক করে’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই সহসমন্বয়ক বলেন, ‘কোনো ধরনের টালবাহানা করবেন না। অবিলম্বে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। তা না হলে ছাত্র-জনতা আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।’

এর আগে আজ সকালে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহত আনসার সদস্যদের দেখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এ দলের (আওয়ামী লীগ) অবদান অনেক। দেশের জন্য আওয়ামী লীগের অনেক অবদান আছে। তাই তারা দল গোছাতে পারে।’

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আর বলেন, ‘আপনারা ব্যক্তিগত স্বার্থে এতো বড় একটা দলকে নষ্ট করে দেবেন না। প্রতি বিপ্লবের স্বপ্ন দেখলে হাজার-হাজার মানুষের রক্ত ঝরবে।’

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগকে দল গোছানোর পরামর্শ দিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাত্র ২২ দিনের বিক্ষোভে পতন হয় শেখ হাসিনা সরকারের।

গত ৩ আগস্ট ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লাখো মানুষের সমাবেশে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে সরকার পতনের এক দফা দাবি ঘোষণা করা হয়।

পরদিন ৪ আগস্ট ঢাকাসহ সারাদেশে ছাত্র-জনতাকে প্রতিরোধ করতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামে। এ দিন সারাদেশে ১৪ পুলিশ, শিক্ষার্থী ও বিএনপির নেতাকর্মীসহ শতাধিক মানুষ প্রাণ হারায়।

এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন ঘেরাও করতে ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির ডাক দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সেদিন রাস্তায় নেমে আসেন লাখো মানুষ। শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার অবিস্মরণীয় অভ্যুত্থানের মুখে পতন হয় স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের।

ওই দিন বেলা আড়াইটার দিকে শেখ হাসিনা গণভবন থেকে হেলিকপ্টারে করে বঙ্গভবনে যান। সেখানে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এরপর বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।

এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা সাড়ে ১৫ বছরের ক্ষমতার অবসান ঘটে। এরপর বদলে যেতে শুরু করে দেশের সার্বিক চিত্র।

গত ৬ আগস্ট দুপুরে জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।

আরও পড়ুন: 

জয়-আরাফাতের জুডিশিয়াল ক্যু করার ‘ষড়যন্ত্র ফাঁস’

সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আ.লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি

আ.লীগের কেন্দ্রীয় অফিস এখন ছাত্র-জনতার কার্যালয়

আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায়

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর