বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪ | ১০ শ্রাবণ, ১৪৩১ | ১৮ মহর্‌রম, ১৪৪৬

মূলপাতা সাক্ষাৎকার

আবদুচ ছালামের সাক্ষাৎকার

বোয়ালখালীবাসী মনে করছে, আমি এমপি হলে নতুন কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন হবে


প্রকাশের সময় :২ মার্চ, ২০২৩ ৯:৩০ : অপরাহ্ণ
Rajnitisangbad Facebook Page

আবদুচ ছালাম। বয়স ৭২ বছর। আসন্ন চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী তিনি। সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী হিসেবে তার নাম বেশ জোরেসোরেই আলোচনা হচ্ছে।

আবদুচ ছালাম চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান পদে টানা ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। ১০ বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে নগরবাসীর কাছে ‘কর্মবীর’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করা এই রাজনীতিবিদ একজন সফল ব্যবসায়ীও। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প পরিবার ওয়েল গ্রুপের চেয়ারম্যান তিনি। আসন্ন চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী আবদুচ ছালাম। তিনি ওই সংসদীয় এলাকার মোহরায় বসবাস করেন। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তার নাম বেশ জোরেসোরেই আলোচনা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনের উপনির্বাচন ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আবদুচ ছালামের মুখোমুখি হয়েছে রাজনীতি সংবাদ। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজনীতি সংবাদের সম্পাদক সালাহ উদ্দিন সায়েম

রাজনীতি সংবাদ:: চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনের উপনির্বাচনে আপনি কেন প্রার্থী হতে চান?

আবদুচ ছালাম: আমরা যারা রাজনীতি করি, প্রত্যেকেরই স্বপ্ন থাকে কেউ উপজেলা চেয়ারম্যান হবে, কেউ মেয়র হবে, কেউ এমপি হবে, কেউ মন্ত্রী হবে। আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমারও সেই স্বপ্ন থাকা স্বাভাবিক।

প্রশ্ন: এর আগে আপনি ২০০৮ ও ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু মহাজোটের প্রার্থীর কারণে শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়িয়েছিলেন। এবার উপনির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী?

উত্তর: ২০০৮ ও ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের সমীকরণের কারণে নির্বাচন করতে পারিনি। কিন্তু এবার উপনির্বাচনে তো মহাজোটের সমীকরণ নেই। এই এলাকার উন্নয়নের জন্য আমার নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) যদি আমাকে উপযুক্ত মনে করেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ, প্রাণ প্রিয় নেত্রী নমিনেশন দিবেন।

প্রশ্ন: আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ও কয়েকজন ব্যবসায়ী এই আসন থেকে মনোনয়ন চাইছেন। আপনি কি এসব মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাউকে চ্যালেঞ্জ মনে করছেন?

উত্তর: আমি তো সিডিএ চেয়ারম্যান পদে ১০ বছর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এসেছি। আমি কাউকে চ্যালেঞ্জ মনে করি না। আমার নেত্রী জানেন, কার কী যোগ্যতা আছে, কাকে দিয়ে কী কাজ হবে। এই এলাকার উন্নয়নের জন্য নেত্রী একজন উপযুক্ত ব্যক্তিকে প্রার্থী করবেন।

প্রশ্ন: অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের চেয়ে আপনি নিজেকে কতটুকু উপযুক্ত মনে করেন?

উত্তর: আমি কতটুকু উপযুক্ত তা চট্টগ্রামবাসী জানেন। সিডিএ’র চেয়ারম্যান থাকাকালে ফ্লাইওভার, আউটার রিং রোডসহ বড় বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। ১০ বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। যা একটি শহরের জন্য অভাবনীয়। সিডিএ’র চেয়ারম্যান হিসেবে আমি কী করেছি না করেছি তা মানুষ মূল্যায়ন করবে।

প্রশ্ন: সিডিএ’র ফ্লাইওভার প্রকল্প নিয়ে তো চট্টগ্রামের অনেক রাজনীতিবিদ ও প্রকৌশলী আপনার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন…

উত্তর: আমার ফ্লাইওভার এখন কথা বলছে, সমালোচনাকারীদের জবাব দিচ্ছে। মানুষ এখন ফ্লাইওভার দিয়ে লালখান বাজার থেকে মাত্র ৬ মিনিটে বহদ্দারহাটে পৌঁছে যাচ্ছেন। জিইসি, দুই নম্বর গেইট, মুরাদপুর ও বহদ্দারহাটে এখন কোনো যানজট নেই। যারা তখন আমার সমালোচনা করেছিলেন তারাও এখন ফ্লাইওভারের সুফল পাচ্ছেন।

প্রশ্ন: সিডিএ’র চেয়ারম্যান হিসেবে আপনি যদি সফল হয়ে থাকেন, তাহলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ থেকে আপনাকে কেন মনোনয়ন দেওয়া হয়নি?

উত্তর: মেয়র পদে মনোনয়ন চাওয়ার অর্থ এই নয় যে, আমাকে প্রার্থী করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, আমার নেত্রী কখনো ভুল সিদ্ধান্ত নেন না। দল ও জনগণের জন্য কোথায় কাকে দিয়ে কল্যাণ হবে তিনি সেটা ভালো করেই জানেন। নেত্রী হয়তো মেয়র পদে আমার মঙ্গলের জন্য মনোনয়ন দেননি।

প্রশ্ন: চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রচার আছে, সিডিএ’র চেয়ারম্যান হিসেবে আপনার কর্মকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী অসন্তুষ্ট হয়েছেন। এটা কতটুকু সত্য?

উত্তর: এটা হাস্যকর কথা। প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে সহযোগিতা না করতেন তাহলে আমি এতো প্রকল্প তো বাস্তবায়ন করতে পারতাম না। আর আমার কোন প্রকল্পটা জনগণের কল্যাণে করা হয়নি, জনগণ সুফল পাচ্ছে না, সরকারি টাকা নষ্ট করেছি-এসব অভিযোগ এখন পর্যন্ত কেউ উত্থাপন করতে পারেনি।

প্রশ্ন: চট্টগ্রাম-৮ আসনের আগের দুই এমপি মইন উদ্দীন খান বাদল ও মোছলেম উদ্দিন আহমদ নতুন কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। আপনিও কি মনোনয়ন পেলে আগের দুই এমপির মতো এই সেতু বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেবেন?

উত্তর: আমি প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী নয়, বাস্তবায়নে বিশ্বাসী। সিডিএ’র যেসব প্রকল্প আমি বাস্তবায়ন করেছি, তা আগে কোনো প্রতিশ্রুতি দিইনি। নতুন কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়নের জন্য আগের দুই এমপির চেষ্টার কোনো ত্রুটি ছিল না, আন্তরিকতারও অভাব ছিল না। আসলে প্রকল্প বাস্তবায়ন একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তবে আমি মনে করি, আল্লাহপাক কাকে দিয়ে কী কাজ করাবেন তা নির্দিষ্ট করে রেখেছেন।

প্রশ্ন: নতুন কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়নে আগের দুই এমপির ওপর ওই এলাকার মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছিলেন। আসন্ন উপনির্বাচনে আপনিসহ আরও যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী আছেন তাদের ওপর কি বোয়ালখালীবাসী কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়নে আস্থা রাখতে পারবেন?

উত্তর: আমি বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করেছি পরিবার থেকে। যারা পরিবারের আস্থা অর্জন করতে পারে না, তারা মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবে না। সিডিএ’র চেয়ারম্যান থাকাকালে আমি রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য ১০ হাজার বাড়ি-ঘর উচ্ছেদ করেছি। অথচ আমি কোনো নোটিশ পাঠাইনি, মাজিস্ট্রেট পাঠাইনি, বুলডোজারও পাঠাইনি। ওরা নিজের জায়গা নিজেরা ছেড়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, তারা আমাকে বাকিতে জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছে। কাউকে অগ্রিম কোনো টাকা দিইনি। এরকম নজির বাংলাদেশে নেই। চট্টগ্রামের মানুষ আমাকে কীভাবে এতোটা বিশ্বাস করলো, এটা ভাবতে আমার আশ্চর্য লাগে। সিডিএ’তে আমি বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। তাই এখন বোয়ালখালীর মানুষ আমার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রাখছে। বোয়ালখালীবাসী মনে করছে, আমি এমপি হলে নতুন কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন হবে।

রাজনীতি সংবাদ: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আবদুচ ছালাম: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন: নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীকে ঠেকাতে বাদল ও মোছলেমকে টাকা দিয়েছিলেন মোরশেদ খান

মন্তব্য করুন
Rajnitisangbad Youtube


আরও খবর