, | |

মূলপাতা জাতীয়

বেগম মুজিব ছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলনের নেপথ্যের কারিগর: প্রধানমন্ত্রী


প্রকাশের সময় :৮ আগস্ট, ২০২১ ৮:২০ : অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘একটা গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু আমি সব সময় এটা বলি, আমার মা বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছিলেন সবচেয়ে বড় গেরিলা। অসামান্য স্মরণশক্তি ছিল তার। বাংলাদেশের কয়েকটি বিষয়ে সঠিক সময়ে যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেগুলো সঠিক সময়ে আমার মা নিয়েছিলেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেপথ্যের কারিগর।’

রোববার (৮ আগস্ট) ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব-এর ৯১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন’ এবং ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব পদক-২০২১ প্রদান’ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গমাতা ছিলেন বড় গেরিলা। তার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড কখনো আঁচ করতে পারেননি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থারা। আমার বাবা যখন জেলে ছিলেন। তখন আমার মা বোরখা পড়ে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতেন। তাদেরকে আমার বাবার মেসেজ পৌঁছে দিতেন। এমনকি নিজের গহনা বিক্রি করেও তাদের হাত খরচ দিতেন। আর এভাবেই তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি কাজে সহযোগিতা করে যেতেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রত্যেকটা সংগ্রামে আমার মায়ের অনেক অবদান রয়েছে। আপনারা জানেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র হওয়ার পর থেকেই কিন্তু পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে সব সময় রিপোর্ট দিত। সে রিপোর্টগুলো আমি প্রকাশ করেছি, সেখানে কিন্তু একটি জিনিস খুঁজে দেখেছিলাম যে, কোথাও আমার মায়ের কথা লেখা আছে কি না। কিন্তু সেখানে তারা আমার মায়ের বিরুদ্ধে কিছুই লিখতে পারেননি। অথচ আমার মা রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানুষের কল্যাণে নিজের জীবনটাকে উৎসর্গ করেছেন, কিন্তু তার পাশে থেকে সব সময় প্রেরণা যুগিয়েছেন আমার মা। আমার মা কখনো সামনে আসেননি, কখনো কোনো মিডিয়ার সামনে যাননি। কখনো নিজের নামটাও ফলাতে চাননি। তিনি নীরবে পাশে থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে আমার বাবাকে সহযোগিতা করে গেছেন, সমর্থন দিয়ে গেছেন। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় ত্যাগ, বাবাও (বঙ্গবন্ধু) স্বীকার করে গেছেন।’

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিবের জন্মদিনের ইতিহাস তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটা। এই বাড়িটা কিন্তু খুব ধীরে ধীরে, আস্তে আস্তে করা। এক চোটে করা সম্ভব হয়নি। সেখানে আব্বা আজকে জেলে, কালকে বাইরে। আমার মা’ই উদ্যোগ নিয়ে শুরু করেছিলেন। সোহরাওয়ার্দী সাহেব ঢাকায় এসে আমাদের বাসা দেখতে আসেন। ফিরে যাওয়ার সময় উনি প্লেনে কয়েকটা সিঁড়ি উঠে যান। আবার নেমে আসেন। নেমে এসে আমার আব্বাকে বলেন, ‘মুজিব তোমার বাড়িটা তুমি হেবা করে তোমার স্ত্রীর নামে লিখে দাও।’ পকেট থেকে কিছু টাকাও তিনি বের করে দেন। কারণ হেবা করতে গেলে রেজিস্ট্রি করতে হবে। ট্যাক্স দিতে হবে। সেই জন্য তিনি নিজে কিছু টাকাও দিয়ে গেলেন।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমার যতদূর মনে পড়ে, ৬২ সালের কথা। ৬১ কি ৬২ সালের দিকে, উনি টাকা দিয়ে গেলেন। হেবা করতে গেলে বিয়ের কাবিননামা দরকার। কাবিনামাটা ছিল আমার দাদার কাছে। সেই সময় কাবিননামাটা প্রয়োজন হয়। আমার দাদা ওটা নিয়ে আসেন। আমি, আমার খালাতো বোন ছিল জেনি এবং রেহানা আমরা, খুব আগ্রহ যে, কী লেখা আছে পড়ে দেখবো। আমরা সেখান থেকেই কিন্তু মায়ের জন্ম তারিখটা পাই। সেই থেকে আমরা ঘরে ছোট-খাটো করে মায়ের জন্মদিন উদযাপন করতাম।’

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর