রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২ | ১২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ | ২ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪

মূলপাতা দেশজুড়ে

সিলেটে যাচ্ছেন মামুনুল হক, প্রতিরোধের ডাক আ’লীগের


রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :১৯ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:৩৮ : অপরাহ্ণ
??????? ??????? ???? ????????? ????? ??? ???? ???????

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের হুমকিদাতা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মামুনুল হকের সিলেট আগমনকে কেন্দ্র করে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ মামুনুল হককে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন।

এই হেফাজত নেতা আগামী ২৫ ডিসেম্বর উপজেলার জামিয়া দ্বীনিয়া আসআদুল উলুম রামধা মাদ্রাসার ৭১তম বার্ষিক জলসায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণকে কেন্দ্র করে আক্রমণাত্মক ভাষায় বক্তৃতা দেওয়ার পর মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের একটি সংগঠনের রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলার আবেদন আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে। গত ১৭ ডিসেম্বর হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমির আহমদ শফির মৃত্যুকে হত্যা দাবি করে মামুনুল হকসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম আদালতে মামলা করা হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে আলোচনার জন্য গত শনিবার মাদ্রাসার সুরা আমেলার সদস্যরা বৈঠকে বসে। সেখানে মামুনুল হকের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব উঠলেও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়ে আসার ব্যাপারেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগ মামুনুল হককে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে।

আলীনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘মামুনুল হককে মাদ্রাসার মাহফিলে নিয়ে আসার বিষয়ে আমরা দলীয় একটি বৈঠকে আলোচনা করেছি, সেখানে আমরা নীতিগতভাবে সমালোচিত এই নেতাকে এলাকায় না আনার ব্যাপারে একমত হয়েছি।’

মামুনুল হক মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সর্বশেষ আলোচনার সময় প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে আসবেন বলে জানিয়েছেন।

মাদ্রাসার মুহতামিম ইউসুফ আহমদ খাদিমানী বলেন, ‘এই মাহফিলের জন্য দুই বছর আগে তার সম্মতি নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি অন্যরকম হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে তার (মামুনুল হক) সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে, তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা জানিয়ে বলেছেন যে স্থানীয় প্রশাসন থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেলে তবে তিনি আসবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রশাসনের কাছে অনুমতির জন্য যাব। অনুমতি পেলে মামুনুল আসবেন না হলে আসবেন না।’

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি একটি মাহফিলের আয়োজন করে। যাতে চরমোনাই পীর সৈয়দ মো. রেজাউল করীমের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

কিন্তু, চরমোনাই পীরের বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ৬ ডিসেম্বর ছাত্রলীগ কর্মীরা মাহফিলের একটি ব্যানারে আগুন দিয়ে মাহফিল প্রতিহতের ঘোষণা দেয়। সেদিনই প্রশাসন ওই মাহফিলের অনুমতি বাতিল করে।

আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মামুন বলেন, ‘মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মাহফিলের দাওয়াত দিলে বিষয়টি জানতে পারি। আগামী সোমবার মাদ্রাসার মজলিসে সুরার বৈঠক আছে, সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব, যাতে কোনো অবস্থায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয়।’

এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী মাহবুব বলেন, ‘তারা এখনো আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে, স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তারা জানিয়েছেন মাদ্রাসার মাহফিলে মামুনুল হক যাতে না আসেন, সেটা তারা দেখছেন। আর অনুমতি ছাড়া যদি মামুনুল হক আসেন, তাহলে সেটা আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবো।’


আরও খবর