শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২১ | ১২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ | ২১ রবিউস সানি, ১৪৪৩

পাকিস্তানে ২০০ জন আর্টিস্ট তৈরি করছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোরআন মাজিদ, সময় লাগবে ৯ বছর


প্রকাশের সময় :১৭ অক্টোবর, ২০২১ ১১:০০ : পূর্বাহ্ণ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকারের পবিত্র কোরআন মাজিদ তৈরি করা হচ্ছে পাকিস্তানে। করাচি আর্ট কাউন্সিলের উদ্যোগে এই কাজ সম্পন্ন হচ্ছে।

২০১৭ সাল থেকে এ প্রকল্পে কাজ করছেন কমপক্ষে ২০০ জন আর্টিস্ট। তারা স্বর্ণের প্রলেপ দেয়া অ্যালুমিনিয়ামের সুতা দিয়ে অক্ষর বিন্যাস করছেন। পবিত্র এই কোরআন মাজিদের দৈর্ঘ্য হবে ৮.৫ ফুট। আর প্রস্থ ৬.৫ ফুট। ২০২৬ সালের মধ্যে এ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এ প্রকল্প কাজের তত্ত্বাবধান করছেন শহীদ রাশাম।

বলা হচ্ছে এই কোরআন বিশ্বরেকর্ড করবে। কারণ এর আগে সবচেয়ে বড় মাপের কোরআন মাজিদের দৈর্ঘ্য ছিল ৬.৫ ফুট। প্রস্থ ৪.৫ ফুট। এই কোরআন মাজিদটি ২০১৭ সালে তৈরি করা হয়েছিল আফগানিস্তানে। বর্তমানে সেটি রাশিয়ার কাজান শহরে কুল শরীফ মসজিদে রাখা আছে।

সেই হিসেবে পাকিস্তানে তৈরি এই কোরআন মাজিদের আকার অনেক বড় হবে।

শহীদ রাশামের মতে, ইসলামের কমপক্ষে ১৪০০ বছরের ইতিহাসে তারাই প্রথম অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে পবিত্র কোরআনের অক্ষর বিন্যাস করছেন। এর আগে পবিত্র কোরআনে কাঠ, কাগজ, পশুর চামড়া এবং কাপড়ে ক্যালিগ্রাফি করা হয়েছে। তাতে ক্লাসিক আর্ট প্রদর্শন করা হয়েছে।

রাশাম বলেন, এই প্রকল্পটি আমার সারাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।

শহীদ রাশামের বয়স ৪৯ বছর। তিনি তার সহযোগীদের নিয়ে গত দুই বছরে পবিত্র কোরআনের প্রথম দুটি পৃষ্ঠার অক্ষর বিন্যাস করেছেন। আর গত কয়েক মাসে তিনি দিনে গড়ে ১০ ঘন্টা সময় দিয়েছেন এ প্রকল্পে।

তিনি বলেছেন, এটি একটি চ্যালেঞ্জিং কাজের চেয়েও বেশি কিছু। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পবিত্র কোরআনের নির্ভুল অক্ষর বিন্যাস। একটি ছোট্ট ভুল হলেই পুরো কাজ বানচাল হয়ে যেতে পারে।

এই নভেম্বরে দুবাই এক্সপো’তে যাচ্ছেন রাশাম। সেখানে তিনি পবিত্র সুরা আর রহমানের আর্টওয়ার্কের নমুনা নিয়ে প্রথম প্রদর্শন করবেন।

রাশাম বলেছেন, তিনি তুরস্ক, আরবি, ইরানি আর্ট ও ডিজাইন দেখে এই কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ছেন।

রাশাম বলেন, আমরা আমাদের মতো করে ডিজাইন তৈরি করেছি। তার আগে তুরস্ক, আরবি এবং ইরানি ডিজাইন নিয়ে আমরা গবেষণা করেছি। তবে আমরা যেটা করছি, তার সঙ্গে ওইসব দেশের আর্টের কোনো মিশ্রণ নেই। আমরা শুধু সেখান থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েছি।

তিনি বলেছেন, প্রথম ধাপে তারা অক্ষরগুলোকে ক্লে’ বা নরম ধাতব গলনে পরিণত করেছেন। তারপর সেটা প্লাস্টার্ড করা হয়েছে। শেষ ধাপে তা সুতা বা তন্তুর রূপ দিয়ে অ্যালুমিনিয়ামে পরিণত করেছেন। এ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে ২০০ কিলোগ্রাম স্বর্ণ, ২০০০ কিলোগ্রাম এলুমিনিয়া, এবং ৬০০ রোল ক্যানভাস। এসব ব্যবহার করে ৭৭ হাজার ৪৩০টি শব্দকে ৫৫০ পৃষ্ঠায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। এর সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে আরো সহায়ক অনেক কিছু।


Comments are closed.

আরও খবর