ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তাকে হয়তো ইরানের বাকি অংশ ধ্বংস করতে হতে পারে এবং তার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা সবাই শিগগিরই জানতে পারবেন।
স্থানীয় সম বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘এখন ভাবছি, এই লড়াই কি আমরা আরও সামনে নিয়ে যাব এবং একবারে শেষ দেখে ছাড়ব? যাতে এই ঝামেলা বা বিপদ আর কখনো ফিরে আসতে না পারে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যদি সম্ভব হয় তবে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস না করতেই পছন্দ করবো, তবে হয়তো আমাকে তা-ই করতে হতে পারে। আর আপনারা খুব শিগগিরই তা জানতে পারবেন।’
এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তেহরান একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকেরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো আলোচনা চলছে কি না।
জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের অনুমোদন ছাড়া তারা কিছুই করতে পারবে না।’
তার এই বক্তব্যে ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের অবসানে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ইরানের পুনর্গঠনে অন্তত ২৫ বছর সময় লাগতে পারে।
উভয় দেশের মধ্যকার সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে দেখা যাচ্ছে কূটনৈতিক ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে। কাতারকে মধ্যস্থতাকারী করে ইরান নিজেদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তেহরানের স্পষ্ট শর্ত-নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ তাদের দাবিগুলো ওয়াশিংটন মেনে নিলেই কেবল আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসা সম্ভব।
আরও পড়ুন: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের পর ট্রাম্প বললেন, ইরান যুদ্ধই হারের কারণ
