, | |

মূলপাতা আইন-আদালত

মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদের, আরাফাতসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড


(ওপরে বাঁ থেকে) ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত (নিচে বাঁ থেকে) শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, ঢাকা প্রকাশের সময় :১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৩৪ : অপরাহ্ণ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ দলটির এবং যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাদের এই সাজা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে রায়ে পাঁচ নেতার সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করে তা আন্দোলনে হতাহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন-কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

 

রায়ে বলা হয়, বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ জুলাই-আগস্ট (২০২৪) সময়কালে নিহত ও আহত সব ব্যক্তি বা তাদের পরিবারবর্গকে ‘জুলাই ফাউন্ডেশন’ বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট এই মামলার শুনানি শেষ হয়। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা। অন্যদিকে পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান উপস্থিত ছিলেন।

২০২৫ সালের ১৮ জুন এ মামলার তদন্তকাজ শুরু হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তারা। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।

একই দিন ট্রাইব্যুনাল-২ প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। এরপর ধাপে ধাপে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও স্টেট ডিফেন্স নিয়োগসহ শুনানি শেষে চলতি বছরের (২০২৬ সাল) ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন এবং প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ। গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী এতে সাক্ষ্য দেন।

এর আগে দুটি ট্রাইব্যুনাল জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি মামলার রায় দিয়েছে। ওইসব রায়ে মোট ৬১ জন আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই ১৫ আসামির মধ্যে ১১ জনই পলাতক এবং কারাগারে বন্দী আছেন মাত্র ৪ জন।

আরও পড়ুন: জিয়াউর রহমানকে গুলি করেন কর্নেল মতিউর, দুদিন আগে চট্টগ্রাম যান এরশাদ

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর