বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।
আজ রোববার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেয়।
এর আগে সকালে উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। দুপুর ২টার পর তাকে আদালতে তোলা হয়। এরপর চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাইফুরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণের আবেদন জানান। আবেদন মঞ্জুর করে ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে গত ৯ আগস্ট প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, দেড় দশক আগে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে অপহরণের প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে দ্বিতীয় চেষ্টায় তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় সাইফুরের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

ওই সময় বিমান বাহিনীর তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার সাইফুর রহমান র্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন। আর তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসান ছিলেন র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক।
সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের জামাতা সাইফুর রহমান সর্বশেষ বিমান সদর দপ্তরের ডিরেক্টরেট অব এয়ার ট্রেনিং ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যার ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম আসে। এরপর ২৬ জুলাই রাতে বাসা থেকে তাকে আটক করে বিমান বাহিনীর বিশেষ পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট)। এই মামলায় বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান কারাগারে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালককে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তাদের আর খোঁজ মেলেনি। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশেই ইলিয়াস আলীকে ‘গুম’ করা হয়। আর র্যাবের গোয়েন্দা শাখা এতে সরাসরি জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে ঢাকাকে ‘নতুন বার্তা’ জয়শঙ্করের
