আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে জাতীয় সংসদে তোপের মুখে পড়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তার একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল শুরু করলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বারবার সদস্যদের নিজ নিজ আসনে বসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে অনুরোধ করলেও বেশ কিছুক্ষণ হইচই চলতে থাকে। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ হলে স্পিকার তাকে ধন্যবাদ জানান এবং বিরোধীদলীয় নেতাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিলে পরিস্থিতির অবসান হয়।
আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্পূরক প্রশ্নোত্তরের সময় এ ঘটনা ঘটে।
সরকারের ছয় মাসের অপরাধ পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল না ব্যর্থ-এমন প্রশ্ন করাকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে তীব্র হট্টগোল হয়। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল না ব্যর্থ-এটা শাহবাগ ও পল্টনে বলা যায়। সংসদে এ ধরনের প্রশ্ন চলে না।’
হাসনাত আবদুল্লাহ সরকারের গত ছয় মাসের অপরাধ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, তিনি সফল না ব্যর্থ। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো প্রশ্ন নয়, বরং ‘পল্টনের বক্তব্য’।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি— এমন নির্দিষ্ট উদাহরণ দিতে তিনি বিরোধী সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘স্পেসিফিক করে বলতে হবে, কোন অপরাধে শাস্তি হয়নি।’
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ‘শাহবাগ ও পল্টন’ প্রসঙ্গ উঠে আসার পর সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসন থেকে উঠে প্রতিবাদ ও চিৎকার করতে থাকেন।
পরিস্থিতির মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কাউকে উদ্দেশ্য করে বলিনি। আমি তো আপনারা কথা বলার সময় কথা বলিনি! মাননীয় স্পিকার, আমি আপনার শেল্টার চাচ্ছি।’
পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে সব সময় তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলেন এবং নিজেকে সংসদের শিক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা তার ছাত্র হতে সংসদে আসিনি। তিনি শিক্ষকতা করতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারেন। সেখানে যার ইচ্ছা ভর্তি হবে, শিখবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদের সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সংসদের সৌন্দর্যের জন্য তাকে ক্ষমা চাইতে হবে।’
পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, দিনে-দুপুরে অস্ত্র ব্যবহার করে ছিনতাই ও রাহাজানি হচ্ছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ওপর হামলা হচ্ছে। সরকারদলীয় ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হলেও আসামিদের গ্রেফতার না করে উল্টো বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জানতে চান, প্রকাশ্যে অস্ত্র ব্যবহার করে ছিনতাই-রাহাজানি এবং সংসদ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শাহবাগে গিয়ে বক্তৃতা, আর পার্লামেন্টে বক্তৃতা এক কথা নয়।’ তার এ মন্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্যরা প্রতিবাদ ও হইচই শুরু করেন।
একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইয়েস, আই উইথড্র! ঠিক আছে?’
আরও পড়ুন: সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের
