পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে প্রথমবারের মতো দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা মিলে একটি কারিগরি সমীক্ষা করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। চীন এই প্রকল্পে যথাসাধ্য সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছে।
আজ শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
খলিলুর রহমান বলেন, এবারের চীন সফর, আগের সফরগুলোর চেয়ে গুণগতভাবে আলাদা। কেননা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই-তৃতীয়াংশ জনসমর্থন নিয়ে গঠিত সরকারের পক্ষ থেকে এই সফর করেছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ছাড়াও দেশটির অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ থেকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে চীনের বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যের প্রসার নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হয়েছে।
খলিলুর রহমান জানান, সফরে চীন-মিয়ানমার ইকোনমিক করিডোরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে কানেক্টিভিটি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে কুনমিং থেকে মিয়ানমারের বন্দরগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা গেলে পণ্য পরিবহন খরচ ও সময় অনেক কমে আসবে, যা বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াবে।
এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা বাংলাদেশ ও মিয়ানমার—উভয় পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা করে দ্রুত এই সংকট সমাধানের চেষ্টা করবে।
খলিলুর রহমান জানান, মিয়ানমার সরকার এবং আরকান আর্মির সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ রয়েছে এবং তিনি আশাবাদী যে বর্তমান সরকারের অধীনেই এই সমস্যার সমাধান হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীন সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে নিয়মিত আলোচনার জন্য একটি মেকানিজম তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে ছিল।
খলিলুর রহমান এই সফরকে অত্যন্ত সফল হিসেবে দাবি করেন এবং জানান যে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব এখন আরও গভীর, বিস্তৃত ও উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ অভিহিত করে সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব
