মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্তকরণ, অবৈধ হয়ে পড়া কর্মীদের বৈধতা এবং বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি যৌথ দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়।দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই দলিল দুটি হস্তান্তর করেন।
আজ সোমবার সকাল সকাল সাড়ে ১০ টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনের পঞ্চম তলায় এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রথমে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। পরে তাদের যৌথ নেতৃত্বে দুই দেশের প্রতিনিধি পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধান আনোয়ার ইব্রাহিম নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ায় নতুন কর্মী নিয়োগের উদ্দেশ্যে শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে জোরালো আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন জটিলতায় মালয়েশিয়ায় অবৈধ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিতকরণ (বৈধতা প্রদান) এবং তাদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশের আম, ফলমূল ও শাকসবজির জন্য মালয়েশিয়ার বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এছাড়া আসিয়ানের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার জন্য বাংলাদেশের আবেদন এবং ‘রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হয়।
পাশাপাশি দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়াম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বৈঠকে অংশ নেন।
আরও পড়ুন: জিয়াউলের নেতৃত্বে ভারত-বাংলাদেশ জুড়ে সক্রিয় ছিল ‘কিলিং নেটওয়ার্ক’
