ছয় সপ্তাহ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। গত ৫০ বছরের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি আলোচনা।
আজ শনিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি টানা দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয় বলে জানিয়েছে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথম দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসলেন। বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের পক্ষে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এ সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধানও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
পুরো আলোচনাটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার কক্ষে শুরু হয়। দুই ঘণ্টা আলোচনার পর প্রতিনিধিদলগুলো বিরতিতে যায়।
শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনার পাশাপাশি ইসলামাবাদে দুই দেশের টেকনিক্যাল ও বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্যরাও দীর্ঘ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান আলোচনার জন্য একটি অভিন্ন কাঠামোতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টায় নিজেদের মধ্যে লিখিত খসড়া বিনিময় করেছে। তবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র মতবিরোধের কারণে আলোচনা তৃতীয় ধাপে পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
উভয় পক্ষের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের এই আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। আলোচনার জটিলতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় প্রয়োজনে এই সংলাপের সময়সীমা আরও এক দিন বাড়ানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত বিজয়ের আশা করলেও ৪০ দিন ধরে ইরান তাদের সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে এবং ইসরায়েলের অধিকৃত এলাকায় মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
পরিস্থিতি শান্ত করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের জন্য একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় বর্তমানে ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসেছেন।
এই আলোচনার জন্য ইরান ইতিমধ্যে একটি ১০ দফা পরিকল্পনা পেশ করেছে। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার, ইরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।
তবে ইরানের সরকার এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর আস্থার সংকট বজায় রেখেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই আলোচনার অর্থ এই নয় যে তারা সংঘাত মিটিয়ে ফেলছে; বরং তারা মনে করে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের ময়দান এখন কেবল কূটনৈতিক অঙ্গনে স্থানান্তরিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ১০ দিনের চন্দ্রাভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরলেন ৪ নভোচারী
