বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে মহানগরী এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিন অনলাইনে ক্লাস ও বাকি ৩ দিন সশরীর ক্লাসের নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জানানো হয়নি।
আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ কথা জানান।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহে মোট ছয় দিন ক্লাস হবে। এর মধ্যে তিন দিন শিক্ষার্থীরা সরাসরি স্কুলে উপস্থিত হয়ে ক্লাস করবে এবং বাকি তিন দিন ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠদান চলবে। জোড়-বিজোড় দিন ভাগ করে হবে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস। তবে অনলাইন ক্লাসের দিনগুলোতেও শিক্ষকদের সশরীরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সেখান থেকেই পাঠদান পরিচালনা করতে হবে। বিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিষয়ের ব্যবহারিক ক্লাসগুলো অফলাইনে ল্যাবে সম্পন্ন করার নির্দেশনা থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে একদিকে জ্বালানি সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতাও বজায় রাখা সম্ভব হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘ ছুটির কারণে শিক্ষার্থীদের যে শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতেই সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে জ্বালানি সংকট ঘনীভূত হওয়ায় যাতায়াত ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে তিন দিন অনলাইন মাধ্যম বেছে নেওয়া হয়েছে। আপাতত এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে।
রমজান, ঈদ ও বিশেষ ছুটি মিলিয়ে দীর্ঘ ৪০ দিন পর গত রোববার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও প্রথম দিনে উপস্থিতির হার ছিল আশঙ্কাজনকভাবে কম। বিশেষ করে ধানমন্ডি, গুলশান ও উত্তরার মতো এলাকায় অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উপস্থিতি কম ছিল।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা খাতুন জানান, জ্বালানি সংকটে গাড়ি ব্যবহার করতে না পারায় অনেক অভিভাবক আগেই স্কুল কর্তৃপক্ষকে ছুটির কথা জানিয়েছিলেন।
ঈদের ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনটি বিকল্প পরিকল্পনা রেখেছিল সরকার। সংকট তীব্র হলে পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ক্লাস, সরাসরি ও অনলাইন-উভয় মাধ্যম চালু রেখে হাইব্রিড পদ্ধতি এবং সমন্বিত রুটিনের মাধ্যমে সপ্তাহের দিন ভাগ করে ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
আরও পড়ুন: আরও ১৪ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ
