ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনি তার প্রথম বিবৃতিতে প্রত্যেক শহীদের রক্তের বদলা নেওয়ার অঙ্গীকার করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় সেগুলোর ওপর হামলা চলবে। তাছাড়া, শত্রুদের ওপর চাপ বজায় রাখতে হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে বলেও জানিয়েছেন মুজতাবা।
আজ বৃহস্পতিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বিবৃতিটি ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একজন উপস্থাপক পাঠ করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহতদের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করে বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, ‘আমি সকলকে আশ্বস্ত করছি যে আমরা আমাদের শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নিতে পিছপা হবো না। আমাদের প্রতিশোধের শুধুমাত্র ইসলামী বিপ্লবের মহান নেতার (আয়াতুল্লাহ আল খামেনি) শাহাদাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং শত্রুদের হাতে শহীদ হওয়া জাতির প্রতিটি সদস্যের জন্য প্রতিশোধের আলাদা আলাদা ফাইল খোলা হবে।’
ইরানের সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইরানের নতুন এই সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘আমি সাহসী যোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই যারা এমন এক সময়ে দুর্দান্ত কাজ করছেন যখন আমাদের দেশ চাপ এবং আক্রমণের মুখে রয়েছে।’
উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে তাদের মাটিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোজতবা খামেনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুত সুরক্ষা ব্যবস্থা আসলে মিথ্যা কথা ছাড়া আর কিছুই নয়।’
ইরানে যুদ্ধের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রয়ারিতে নিহত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তার ঠিক ৯ দিনের মাথায় গত রোববার খামেনির ছেলে মুজতাবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে বেছে নেয় ইরান।
এরপর ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও জনসম্মুখে তার দেখা মেলেনি, এমনকি তার পক্ষ থেকে কোনো বার্তাও আসছিল না। এতে তার অবস্থা নিয়ে জল্পনা সৃষ্টি হয়েছিল। এই জল্পনার মধ্যেই তার প্রথম বিবৃতি প্রকাশ্যে এলো।
আরও পড়ুন: হরমুজে মাইন বসাচ্ছে ইরান, নজিরবিহীন পরিণতির হুমকি ট্রাম্পের
