ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এরপর হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছেন।
আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা) যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
আজ ইসরায়েলি সেনারা গাজার কিছু এলাকা থেকে পিছু হটা শুরু করলে গাজাবাসীরা দলে দলে ধুলায় মোড়া রাস্তায় হেঁটে গাজা সিটির দিকে ফিরতে শুরু করেন। অনেকে গাড়ি, ঘোড়াগাড়িতে যাত্রা করলেও হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পায়ে হেঁটেই রওয়ানা দিয়েছেন।
একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, হাজার হাজার মানুষ সমুদ্র ঘেঁষা আল-রশিদ সড়কে অপেক্ষা করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকেই তারা এখানে অপেক্ষা করছিলেন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যোখানে ইসরায়েলি ট্যাংক ও সামরিক যানগুলো গাজার বাইরে দিয়ে যেতে দেখা যায়।
যুদ্ধবিরতির রূপরেখা অনুযায়ী ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখন গাজার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়েছে।
এরআগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনায় অনুমোদন দেয় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রীসভা।
চুক্তি অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ৭২ ঘন্টার কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে, যার মধ্যে হামাসকে ইসরায়েলি সকল জীবিত জিম্মিদের মুক্তি (২০ জন) এবং মৃত জিম্মিদের (২৮ জন) মরদেহ হস্তান্তর করতে বাধ্য থাকবে। আগামী সোমবার দুপুর ১২টায় এই সময়সীমা শেষ হবে।
বিনিময়ে ইসরায়েলও তাদের কারাগার থেকে প্রায় ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে, যারা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত। এছাড়া গাজা থেকে আটক আরও ১ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি বন্দিও ছাড়া পাবেন ইসরায়েলি কারাগার থেকে।
এছাড়াও ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ইসরায়েলি জিম্মির দেহাবশেষের বিনিময়ে ১৫ জন গাজাবাসীর মৃতদেহ ফেরত দেবে ইসরায়েল। একইসাথে, শত শত ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ শুরু করবে। পরিকল্পনায় প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক ত্রাণ পাঠানোর কথা থাকলেও ফিলিস্তিনি সূত্র বলছে, শুরুতে দৈনিক অন্তত ৪০০ ট্রাক ত্রাণ ঢুকবে এবং পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা বাড়ানো হবে।
