ইসরায়েলে আটক গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অভিযাত্রীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য আমরণ অনশন শুরু করেছেন। আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘টু ব্রেক দ্য সিজ অব গাজা’।
বিবৃতিতে বলা হয়, ফ্লোটিলা জাহাজের কয়েকজন কর্মী আটক হওয়ার পর থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনের ঘোষণা দিয়েছেন। সংগঠনটির দাবি, অভিযাত্রীদের মুক্তি ও গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত এই অনশন চলবে।
আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজামুখী ত্রাণবাহী নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ৪৪টি জাহাজের প্রায় সবগুলোই আটক করেছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। এসময় জাহাজগুলোতে থাকা ৫০টিরও বেশি দেশের ৪৫০ জনের বেশি অধিকারকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বাসিন্দাদের জন্য খাদ্য ও ওষুধ নিয়ে গত ৩১ আগস্ট স্পেনের বন্দর থেকে গাজার উপকূলের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ মিশনের অন্তর্ভুক্ত ৪৩টি নৌযান।
সুইডেনের নাগরিক এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশ আন্দোলন কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি ও রাজনীতিবিদ মান্ডলা ম্যান্ডেলাসহ ৪৪টি দেশের ৫০০ জন নাগরিক ছিলেন সেই মিশনে। এই নাগরিকদের কেউ পার্লামেন্টারিয়ান, কেউ আইনজীবী, কেউ রাজনৈতিক আন্দোলনকর্মী এবং কেউ বা স্বেচ্ছাসেবী।
গাজার জলসীমায় কাছাকাছি যাওয়ার পরপরই একটি ছাড়া সবগুলো নৌযান আটক করে ইসরায়েলের নৌবাহিনী। নৌযান, ক্রু এবং আরোহীদের নিয়ে যাওয়া হয় ইসরায়েলের বন্দরে।
গত বুধবার রাতে প্রথমে ১৩টি নৌযান আটকায় ইসরায়েলের নৌবাহিনী; কিন্তু তারপরও বাকি ৩০টি নৌযান গাজার উদ্দেশে এগিয়ে যাচ্ছিল। পরের দিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একে একে ২৯টি নৌযান আটক করে ইসরায়েলের নৌ সেনারা। সর্বশেষ নৌযানটিকে আটক করা হয়েছে আজ শুক্রবার সকালে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজার ২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা সতর্ক করে বলছে, অব্যাহত হামলা ও অবরোধের কারণে গাজা ক্রমেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। খাদ্য ও ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে দুর্ভিক্ষ ও রোগব্যাধি।
আরও পড়ুন: গাজায় যাচ্ছে আরও ১১টি জাহাজ
