ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ড দখলে নেওয়ার পরিকল্পনার অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে হামাসকে নির্মূল করে গাজা শহর দখলের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
আজ শুক্রবার কাতারের আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মন্ত্রিসভায় এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে এই ইস্যুতে এখনো প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।
এক সিনিয়র ইসরাইলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে গাজা শহর থেকে সব ফিলিস্তিনিকে কেন্দ্রীয় শিবির ও অন্যান্য এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর শহরে থাকা হামাস যোদ্ধাদের অবরুদ্ধ করে স্থল অভিযান চালানো হবে।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু ঘোষণা দেন, ইসরায়েল গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইসরায়েলের উদ্দেশ্য গাজার শাসন পরিচালনা করা নয়, বরং একটি নিরাপত্তা পরিধি গঠন করা। আমরা এমন আরব শক্তির হাতে গাজাকে তুলে দিতে চাই, যারা সঠিকভাবে শাসন করতে পারবে এবং আমাদের জন্য হুমকি হবে না।
নেতানিয়াহুর এমন মন্তব্যের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হামাস। তারা সতর্ক করে বলছে, এই পরিকল্পনার অর্থ হলো নেতানিয়াহু ‘তার ব্যক্তিগত স্বার্থ’ পূরণের জন্য গাজায় অবশিষ্ট ইসরায়েলি জিম্মিদের ‘বলিদান’ দিতে ইচ্ছুক।
মূলত গত কয়েক দিন ধরেই গাজা দখলের ইঙ্গিত দিচ্ছিল ইসরায়েল। ডোনাল্ড ট্রাম্প কার্যত নেতানিয়াহুকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটা ইসরায়েলিদের সিদ্ধান্ত।
সমগ্র গাজা দখলের এই পরিকল্পনা ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক ও ইসরায়েলি জিম্মিদের জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি তৈরি করবে বলে সকর্তবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, সমগ্র গাজা দখলের পরিকল্পনা ‘একটি বিশাল ভুল’।
গাজা উপত্যকার এক তৃতীয়াংশ এখন নিয়ন্ত্রণ করে ইসরায়েলি বাহিনী। চলমান যুদ্ধে নিজের ভূমি থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। নতুন করে পুরো গাজা দখল করলে আরো লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: গাজার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ না খেয়ে দিন পার করছে
