ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-কে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে।
ঘোষণাপত্রের ২৪ নম্বর অংশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কার করা সংবিধানের তফসিলে এ জুলাই ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।
ঘোষণাপত্রে বিগত দেড় দশকের শাসনকে ‘ফ্যাসিবাদী, অগণতান্ত্রিক ও গণবিরোধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এই সময়ে গুম, খুন, আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ধ্বংস এবং একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছিল। ব্যাংক লুট, অর্থ পাচার ও সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করা হয়। এ ছাড়া তিনটি প্রহসনের নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) এবং সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থার বৈষম্যমূলক নীতির কারণে জনগণের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওপর দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় এই গণবিক্ষোভ গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
এর আগে, অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এ ছাড়া শহীদদের স্মরণে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের একটি দলিল। বিএনপি, জামায়াতসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে এটি চূড়ান্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ ঘোষণাপত্রের রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতির বিষয়ে দলগুলো সম্মত হয়েছে।
জুলাই ঘোষণাপত্রের জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। ঘোষণাপত্রের দাবিতে কর্মসূচিও পালন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে পতন ঘটে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তীব্র জনরোষ থেকে বাঁচতে পালিয়ে ভারতে চলে যান। তারপর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার।
ছাত্র-জনতার এই আন্দোলন পরিচিতি পেয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ নামে। তারই প্রথম বার্ষিকী ‘৩৬ জুলাই’ আজ মঙ্গলবার। বাঙালি জাতির জন্য স্মরণীয় একটি দিন।
দিনটির স্মরণে রাজধানীতে আজ উদযাপিত হচ্ছে ‘৩৬ জুলাই’। এ দিবস উপলক্ষে মানিক মিয়া এভিনিউতে দিনব্যাপী নানা আয়োজন করা হয়েছে। রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ড্রোন শো। বিভিন্ন ব্যান্ড দলের গানে গানে মাতছেন অনুষ্ঠানে আসা হাজারো ছাত্র-জনতা।
আরও পড়ুন: প্রতীকী হেলিকপ্টার উড়িয়ে শেখ হাসিনার ‘পলায়ন ক্ষণ’ উদযাপন
