রাজধানীর উত্তরায় দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভেতরে বিমান বাহিনীর একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া শতাধিক আহত ও দগ্ধকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দগ্ধ ও আহতদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী।
আজ সোমবার দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে বিমান বাহিনীর ‘এফ-৭ বিজেআই’ নামের এই প্রশিক্ষণ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
মৃতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে বিধ্বস্ত প্রশিক্ষণ বিমানটির পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর মারা গেছেন। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সম্মিলিতি সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তিনি মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দুপুর ১টা ৬ মিনিটে বিমানটি উড্ডয়ন করে। উড্ডয়ন করার মাত্র ১২ মিনিট পর, ১টা ১৮ মিনিটে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, আকাশে ওড়ার কিছু সময় পরই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে আছড়ে পড়ে। স্কুলের একটি অ্যাকাডেমিক ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। অনেক দূর থেকেও সেখানে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ বুলবুল বলেন, বিমানটি একটি ভবনের গেইটে আছড়ে পড়ে। সেটি অ্যাকাডেমিক ভবন। সেখানে স্কুলের বাচ্চাদের ক্লাস চলছিল। এ সময় আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে থাকেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আগুনে অনেকেই সেখানে দগ্ধ হয়েছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মাইলস্টোন স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র ফারহান হাসান সমুদ্র গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের একটা পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে দাঁড়ায়ে ছিলাম। তখন আগুন ধরা প্লেনটা আমার চোখের সামনেই বিল্ডিংয়ে আঘাত করছে।’
দুর্ঘটনাস্থল থেকে অনেককে স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়। তাদের একটি অংশকে প্রাথমিকভাবে উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, উত্তরা আধুনিক হাসপাতাল, কুর্মিটোলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দগ্ধদের অধিকাংশকে পাঠানো হয় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থালে সাংবাদিকদের বলেন, তাদের কর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৯ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। অর্ধশতাধিক আহত ও দগ্ধকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, ‘উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছে। সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। তাদের মধ্যে একজন মৃত। দগ্ধদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক।’
