, | |

মূলপাতা জাতীয়

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাজ্যের সম্পত্তি জব্দ


সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ।
প্রকাশের সময় :১২ জুন, ২০২৫ ১২:২৪ : পূর্বাহ্ণ

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদের সম্পত্তি জব্দ করেছে যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থা (এনসিএ)। এর ফলে তিনি এসব সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবেন না।

আজ বুধবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তদন্তকারী ইউনিট (আই-ইউনিট) এ তথ্য প্রকাশ করেছে। এই পদক্ষেপের সময় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুস লন্ডন সফরে ছিলেন।

এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থা জানায়, তারা একটি চলমান বেসামরিক তদন্তের অংশ হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বেশ কিছু সম্পত্তি ফ্রিজ (অর্থাৎ বিক্রয় বা হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা) করেছে। এর ফলে তিনি এসব সম্পদ বিক্রি করতে পারবেন না।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার দেশটির সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন সম্পদ জব্দের ‍ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থাকে অনুরোধ জানিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এনসিএ তার সম্পদ জব্দ করেছে।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থার একজন মুখপাত্র জব্দকরণের আদেশ নিশ্চিত করে বলেন, চলমান সিভিল তদন্তের অংশ হিসেবে এনসিএ সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বেশ কয়েকটি সম্পত্তি জব্দকরণের আদেশ পেয়েছে।

আল জাজিরার তদন্তকারী ইউনিট নিশ্চিত করেছে, লন্ডনের অভিজাত সেন্ট জনস উড এলাকায় ১ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড মূল্যের একটি বিলাসবহুল বাড়ি এই ফ্রিজিং আদেশের আওতায় পড়েছে।

ওই বাড়িতেই আল জাজিরার ছদ্মবেশী সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে চৌধুরী তার বৈশ্বিক সম্পদ সাম্রাজ্য, ব্যয়বহুল পোশাক ও বিলাসী জীবনযাত্রা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন। আল জাজিরার সাংবাদিককে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি শেখ হাসিনার সন্তানের মতো। উনি জানেন আমি এখানে ব্যবসা করি।’ তিনি নিজেকে হাসিনার ‘ঘনিষ্ঠ পারিবারিক আত্মীয়’ বলেও দাবি করেন।

বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনে একজন নাগরিক বছরে মাত্র ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত দেশের বাইরে নিতে পারেন। কিন্তু আল জাজিরার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী লন্ডন, দুবাই ও নিউ ইয়র্কে ৫০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের সম্পদ কিনেছেন। এসব সম্পদের কোনোটিই বাংলাদেশে করদাতার বিবরণীতে উল্লেখ করেননি।

গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখ ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এর পর থেকেই দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লোপাটের অভিযোগে তার সরকারের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে বাংলাদেশের নতুন প্রশাসন।

আরও পড়ুন: বৃটেনে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের সাম্রাজ্য

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর