রাজধানীর পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে দুদকের করা পৃথক দুই মামলায় পলাতক শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন।
দুই মামলায় শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এর মধ্যে এক মামলায় ১২ জন ও অন্য মামলায় ১৭ জন আসামি। আসামিরা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
আদালতে দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আগামী ২৯ এপ্রিল গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পরবর্তী প্রতিবেদনের জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।
অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন-জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, কবির আল আসাদ, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), মো. নুরুল ইসলাম, পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং শরীফ আহমেদ।
এদর মধ্যে এক মামলায় শেখ হাসিনা ও জয়সহ ১৭ জন আসামি। অন্য মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১২ জন আসামি। ১১ জন দুটি মামলার আসামি। সেই হিসেবে দুই মামলায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলো।
দুদকের নথি অনুসারে, শেখ হাসিনা রাজউক কর্মকর্তাদের যোগসাজশ করে নিজের জন্য, বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও শেখ রেহানার ছেলেমেয়েদের জন্য তথ্য গোপন করে প্লট বরাদ্দ নিয়েছিলেন।
নিজের এবং স্বজনদের নামে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ১২,১৩ ও ১৪ জানুয়ারি দুদক এই মামলাগুলো দায়ের করে। এর মধ্যে চারটিতে আগেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আজ দুই মামলায় পরোয়ানা জারি হওয়ায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির ছয়টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলো।
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকে সেখানেই রয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: হাসিনা, রেহানা ও টিউলিপের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
