ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পীদের বিদায়ের মিছিল যেনো থামছেই না।
লতা মঙ্গেশকর ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর খবর এলো আরেক কিংবদন্তি গায়ক বাপ্পী লাহিড়ীর।
গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাতে ভারতের মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত বছর তিনি মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান।
কিন্তু মঙ্গলবার অবস্থার অবনতি হলে তাকে নেয়া হয় সিটিকেয়ার হাসপাতালে। সেখানেই মধ্যরাতে তিনি মারা যান।
চিকিৎসকরা জানান, অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ এপনিয়ায় মৃত্যুর হয়েছে বাপ্পী লাহিড়ীর।
প্রখ্যাত এই গায়ক ১৯৭০ থেকে ৮০র দশকে হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে অন্যতম জনপ্রিয় গায়ক ও সুরকার। মাতিয়েছেন বাংলা গানেও।
তার মৃত্যুতের শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই বাংলায়।
১৯৭০-৮০ দশকে ‘চালতে চালতে,’ ডিস্কো ড্যান্সার এবং শারাবির মতো বেশ কিছু গান দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নেন বাপ্পী লাহিড়ী।
বাঘি থ্রিয়ের জন্য ভানকাস গানটি ছিল বলিউডে বাপ্পী লাহিড়ীর শেষ গান।
অন্য আর সব শিল্পী ও সুরকার থেকে বাপ্পী লাহিড়ীকে সহজেই আলাদা করা যায় তার শরীরে থাকা সোনার অলংকার ও সানগ্লাসের জন্য।
বলিউডে ভালোবেসে বাপ্পী লাহিড়ীকে সকলে ‘বাপ্পী দা’ বলে ডাকতেন।
বাপ্পী লাহিড়ীর জন্ম হয় জলপাইগুড়িতে। মাত্র ৩ বছর বয়স থেকেই তিনি তবলা বাজানো শুরু করেন।
তিনি প্রথম বাংলা ছবিতে সুরকার হিসেবে কাজ করেন দাদু ছবিতে। দাদু মুক্তি পেয়েছিল ১৯৭২ সালে।
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বাপ্পী লাহিড়ী মুম্বাই পাড়ি দেন। ১৯৭৩ সালে প্রথম হিন্দি ফিল্ম নানহা শিকারীতে সুরকার হিসেবে কাজ করেন।
১৯৭৬ সালে চলতে চলতে ফিল্ম থেকেই সুরকার হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন তিনি।
বাপ্পী লাহিড়ী প্রথম সুরকার হিসেবে বেজিংয়ে ‘চায়না অ্যাওয়ার্ড’ জেতেন।
বাংলা আধুনিক গানের স্বর্ণযুগের শিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর এক দিন না যেতেই বাপ্পী লাহিড়ীর প্রয়াণ হলো।
মঙ্গলবার কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ৯০ বছর বয়সী সন্ধ্যার।
আরও পড়ুন: চলে গেলেন কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়
