, | |

মূলপাতা দেশজুড়ে

সীমান্তের ওপার থেকে কলকারখানা ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে: প্রধানমন্ত্রী


বাগেরহাটে পথসভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, ঢাকা প্রকাশের সময় :৫ নভেম্বর, ২০২৬ ৪:৪৮ : অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে শ্রমিকদের দাবির আড়ালে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তারা কলকারখানা ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটের কাটাখালী এলাকায় পথসভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি এ অভিযোগ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিশ্চয়ই গত কয়েকদিন ধরে আপনারা লক্ষ্য করেছেন, ঢাকায় কিছু কিছু অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করছে কিছু সংখ্যক মানুষ। আমরা জানি, শ্রমিক ভাই-বোনদের মজুরি নিয়ে কিছু দাবি-দেওয়া আছে। আপনারা দেখেছেন, এরই মধ্যে আমরা সেই দাবি-দাওয়াগুলো বিবেচনা করার জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করেছি। মজুরি বোর্ড এরই মধ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে, যাতে আমাদের প্রিয় শ্রমিক ভাই-বোনেরা একটু হলেও ভালো থাকতে পারে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন যে কিছু সংখ্যক লোক, কিছু উচ্ছৃঙ্খলতাকারী; বর্তমান সরকার যেখানে আমরা মানুষের কর্মসংস্থানসহ শিল্পের প্রসার ঘটাতে চাচ্ছি, শ্রমিক ভাই-বোনদের এই দাবির অন্তরালে কিছু সংখ্যক লোক, একটি মহল, দেশের ওপার থেকে, সীমান্তের ওপার থেকে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, কোনো শ্রমজীবী ভাই-বোন, কোনো শ্রমিক ভাই-বোন শিল্পের কখনো ক্ষতি করতে পারে না। আমরা পত্রপত্রিকাসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখলাম যে এই উচ্ছৃঙ্খলতা সৃষ্টিকারী লোকগুলো বিভিন্ন কল কারখানায় যাচ্ছে এবং এই কল কারখানাগুলো ধ্বংস করছে। ভাঙচুর করছে। গাড়ি ভাঙচুর করছে, মেশিনপত্র ভাঙচুর করছে, কারখানাগুলো ভাঙচুর করছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত গার্মেন্টস শিল্প সরকার কোনো অবস্থায় ধ্বংস হতে দেবে না। এই শিল্পে লাখ লাখ ভাইবোন ও মায়েরা কাজ করছেন, এই শিল্পে তাদের কর্মস্থান হয়েছে। তাই কোনো শ্রমজীবী মানুষ কিংবা শ্রমিক ভাইবোনেরা কখনো শিল্পকারখানার ক্ষতি করতে পারেন না, বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে যন্ত্রপাতি ভাঙচুর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চেষ্টা করতে পারেন না।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই মিল কারখানাগুলো দেশের সম্পদ, দেশের মানুষের সম্পদ, শ্রমিকদের সম্পদ। এই কারখানা যদি ধ্বংস হয়ে যায়, সবার আগে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই দেশের খেটে খাওয়া মানুষ, শ্রমিক ভাই-বোনেরা। তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘একটি মহল গত ১৫-১৬ বছরেও দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি। তারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছিল। গণঅভ্যুত্থানের মুখে যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, তারা এখন সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ওদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।’

বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির নেতা জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে পথসভায় রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা সোমনাথ দে, কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ঢাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল মিছিল, পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপ

Rajniti Sangbad


আরও খবর