যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। চারটি আসন পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা।
স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার রাতে নির্বাচনী ফলাফলে ডেমোক্র্যাটদের জয় নিশ্চিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ৫০টি, আর সিনেটের মোট আসন ১০০টি। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের জন্য সিনেটে ২টি করে আসন আছে। কংগ্রেসের এই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে বিজয়ী দলের প্রার্থীদের অন্তত ৫১টি আসনে জয় পেতে হবে। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সিনেটের ৩৫টি আসনে নির্বাচন হয়েছে।
বেসরকারি উৎস থেকে প্রাপ্ত ফলাফল থেকে জানা গেছে এই ৩৫টি আসনের মধ্যে ১৫টিতে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। এর ফলে সিনেটে ডেমোক্র্যাট পার্টির আসনসংখ্যা পৌঁছেছে ৫২টিতে। ফলে সিনেট এখন ডেমোক্রেটিক পার্টির দখলে।
ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের বিজয়রথ অবশ্য আরও এগোবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ ১৫টি আসনে জয়ের পাশাপাশি আরও ৩টি আসনে এগিয়ে আছে এই এ দলের প্রার্থীরা।
এবারের নির্বাচনে সাউথ ক্যারোলিনা, নর্থ ক্যারোলিনা, টেক্সাস, ওহাইও ও কানসাসে ডেমোক্র্যাটদের জয় সিনেটের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। এর মধ্যে সাউথ ক্যারোলিনা ও টেক্সাসের জয়কে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফল বলছে-জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহিও ও সাউথ ক্যারোলাইনায় গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছেন ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থীরা । জর্জিয়ায় জন অসফ পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। টেক্সাসে জেমস টেলারিকো রিপাবলিকানদের কাছ থেকে আসন ছিনিয়ে নিয়েছেন। নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপারও রিপাবলিকান প্রার্থীকে পরাজিত করে আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে নিয়েছেন।
এছাড়া রিপাবলিকান পার্টির ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত টেক্সাস, আইওয়া, কানসাসে অপ্রত্যাশিত জয় পেয়েছেন ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থীরা।
মিশিগান এবং মিনেসোটা- এ দুই অঙ্গরাজ্যে অবশ্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা তাদের দখলে থাকা আসনগুলোতে পরাজিত হয়েছেন; তবে তারপরও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখার মতো পর্যাপ্ত আসন তাদের হাতে থাকবে।
টেক্সাস, যেখানে গত ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ডেমোক্র্যাটরা কোনো রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয়ী হতে পারেনি-সেখানে ডেমোক্র্যাট জেমস টালারিকো ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
সাউথ ক্যারোলিনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুস বর্তমান রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামকে পরাজিত করেছেন। ডারলিন গ্রাহামকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে মনোনীত করেছিলেন-তার প্রয়াত ভাই এবং ট্রাম্পের আস্থাভাজন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর সেই শূন্যস্থান পূরণের জন্য।
ওহিওতে, ডেমোক্র্যাট শেরড ব্রাউন এমন একটি আসন জিতে নিয়েছেন, যা দুই বছর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের দখলে ছিল।
এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনে রিপাবলিকানদের ‘ট্রাইফেক্টা’রও অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর দলটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র-সিনেট, প্রতিনিধি পরিষদ ও প্রেসিডেন্টের পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের তুলনায় সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বদলানো কঠিন হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কারণ, সিনেটে নির্বাচনের জন্য তুলনামূলকভাবে কম আসন উন্মুক্ত ছিল।
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের মেয়াদ দুই বছর হলেও সিনেটরদের মেয়াদ ৬ বছর। এ ছাড়া সিনেট নির্বাচন পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। ফলে প্রতিবার নির্বাচনে সিনেটের মোট আসনের মাত্র এক-তৃতীয়াংশে ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনা, নাগরিকদের সতর্ক করলো ইরান
