, | |

মূলপাতা আন্তর্জাতিক

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়, হেরে গেলো ট্রাম্পের দল


মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষই হাতছাড়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির। ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১:৩৩ : অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির। মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে হেরে গেছে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি। এর মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হাতে চলে যাচ্ছে। ফলে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির শেষ দুই বছরে তার প্রশাসনের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা পাচ্ছে বিরোধী দল।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ৪৩৫ আসনের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ২১৮টি আসনেই জয় লাভ করেছে এবং ৩৯টি আসনে এগিয়ে আছে। বিপরীতে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি জিতেছে ১২৬টি আসনে এবং ৪৬টি আসনে এগিয়ে আছে।

ট্রাম্পের ঐতিহাসিকভাবে কমে যাওয়া জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এমনকি রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত একাধিক অঙ্গরাজ্যেও জয় পেয়েছে দলটি। এর মধ্যে রয়েছে সাউথ ক্যারোলিনা, নর্থ ক্যারোলিনা, টেক্সাস, ওহাইও ও কানসাসের সিনেট আসন। এসব অঙ্গরাজ্যের কয়েকটিতে কয়েক দশক ধরে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয় পাননি।

 

এর আগে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে নির্বাচনী ফলাফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার নিশ্চিত হয় ডেমোক্র্যাটদের। রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রয়োজনীয় চারটি আসনই নিজেদের দখলে নিতে সক্ষম হয় দলটি।

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ১০০ সদস্যবিশিষ্ট মার্কিন সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা ৫৩টি আসন নিশ্চিত করে নিজেদের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। বিপরীতে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির ঝুলিতে রয়েছে ৪১টি আসন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তিন দিনে চারটি রাজনৈতিক সমাবেশে অংশ নেন। শেষ সমাবেশে অংশ নেওয়ার একপর্যায়ে ঘনিষ্ঠ এক সহযোগীর কাছে এমন একটি প্রশ্ন করেন, যা বেশ কিছুদিন ধরেই তাকে ভাবিয়ে তুলছিল। প্রশ্নটি ছিল-রিপাবলিকান পার্টির অবস্থা এতোটা খারাপ হলো কীভাবে?

ব্যক্তিগত ওই কথোপকথন সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি বলেন, ‘এটা প্রচুর ভ্রমণের ধকল। আর ট্রাম্প বারবার যে প্রশ্নটি করছেন, সেটি হলো, ‘আমরা এখানে এসে পৌঁছালাম কীভাবে?’ ”

ট্রাম্পের এই বিলম্বিত উপলব্ধি রিপাবলিকান পার্টির ভয়াবহ পরিস্থিতিকেই সামনে নিয়ে আসে। অথচ তাঁর আশপাশের নেতারা ও সহযোগীরা গত কয়েক মাস ধরেই এই সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছিলেন।

ঐতিহাসিক প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং চাঙা হয়ে ওঠা ডেমোক্রেটিক পার্টির মোকাবিলায় আগে থেকেই চাপে ছিল রিপাবলিকানরা। এর মধ্যেই ট্রাম্প কোনো সুস্পষ্ট সমাপ্তির কৌশল ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রকে এক অজনপ্রিয় যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেন। যুদ্ধের জেরে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে, যার প্রভাবে ব্যাপক মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগও নতুন করে বেড়ে যায়। নিজের তৈরি এসব সংকট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাকে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনে। ক্ষুব্ধ ও হতাশ ভোটারদের মুখোমুখি হয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীরা এখন মরিয়া হয়ে এমন পথ খুঁজছিলেন, যাতে তাদের নেতার ক্রমাবনতিশীল জনপ্রিয়তার নেতিবাচক প্রভাব থেকে নিজেদের রক্ষা করা যায়।

এই ফলাফলের পর ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষমতার শেষ দুই বছর তাকে এমন এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে, যেখানে ডেমোক্র্যাটদের একের পর এক তদন্ত ও রাজনৈতিক বিরোধিতা তার প্রশাসনের কর্মসূচিকে কার্যত অচল করে দেওয়ার হুমকি তৈরি করবে।

আরও পড়ুন: পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনা, নাগরিকদের সতর্ক করলো ইরান

Rajniti Sangbad


আরও খবর