যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ মঙ্গলবার রাতে শেষ হতে শুরু করবে। ডেমোক্রেটরা আশা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কাছ থেকে প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেট-উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ তারা নিয়ে নেবে। তবে পুরো ফলাফল জানতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, আজ মঙ্গলবারের নির্বাচন শেষে প্রথম ফলাফলগুলো আসতে শুরু করবে। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে প্রথম ভোটগ্রহণ শেষ হবে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টায়)। এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ভোট গণনা শেষে ফলাফল প্রকাশ শুরু হবে। তবে প্রথমদিকের ফলের মানে এই নয় যে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়া আসনগুলোর চূড়ান্ত ফলাফল জানতে কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
কংগ্রেস বা সিনেটে কারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। কিছু অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনা বেশি সময় লাগতে পারে। যেমন-আলাস্কায় ‘র্যাংকড-চয়েস ভোটিং’ বা অগ্রাধিকারভিত্তিক ভোট ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে, দ্বিতীয় দফায় গণনা করতে হয়।
এছাড়া মেইল-ইন ভোটের কারণে ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা, নেভাদা ও ওয়াশিংটনেও চূড়ান্ত ফল আসতে দেরি হতে পারে। অন্যদিকে ফ্লোরিডা, ওহাইও, নর্থ ক্যারোলাইনা এবং পেনসিলভেনিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলো তুলনামূলকভাবে দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করতে পারে। প্রতিটি অঙ্গরাজ্য নিজেদের নিয়ম অনুযায়ী ভোট পরিচালনা ও গণনা করে থাকে। ফ্লোরিডার মতো কিছু রাজ্য আগে থেকেই ভোটের সকল আনুষ্ঠানিকতা আগেই পালন করলেও অনেক রাজ্য নির্বাচনের দিন থেকে ভোট গণনা শুরু করে। মেইল-ইন বা ডাকযোগের ভোট গণনা করতে বেশি সময় লাগে, কারণ খাম যাচাই ও স্বাক্ষর মেলানোর প্রয়োজন হয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় নির্বাচনের দিন বা তার আগে পাঠানো ভোট পৌঁছাতে সাত দিন পর্যন্ত সময় নেয়। এছাড়া আলাস্কায় ‘র্যাংকড-চয়েস ভোটিং’ পদ্ধতি থাকার কারণে ফলাফল প্রকাশে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।
কোনো আসনের ফলাফলে ব্যবধান খুব কম হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা প্রার্থীর অনুরোধে পুনরায় ভোট গণনা হতে পারে। প্রার্থীরা চাইলে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন, যা চূড়ান্ত ফল প্রকাশে আরও দেরি করাতে পারে।
ফলাফল মেনে নেবেন কি না-এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, যদি ‘সৎ নির্বাচন’ হয়, তবেই আমি ফলাফল মেনে নেবো।
তবে শুধু মতের অমিলের কারণে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসনাল নির্বাচনের ফল বাতিল করতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেটের নিজস্ব সদস্যদের নির্বাচন সংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে।
আরও পড়ুন: পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনা, নাগরিকদের সতর্ক করলো ইরান
