, | |

মূলপাতা আন্তর্জাতিক

দিল্লিতে কী ঘটতে যাচ্ছে? শীর্ষ নেতাদের আটক, ককরোচ পার্টির ‘প্ল্যান বি’ কী?


বামপন্থী ছাত্রসংগঠন সর্বভারতীয় ছাত্র সমিতির জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে দিল্লি পুলিশ। ছবি: এএফপি
রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ৮:০৪ : অপরাহ্ণ

ভারতের জাতীয় পতাকা নিয়ে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগেই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ও বামপন্থী ছাত্রসংগঠন সর্বভারতীয় ছাত্র সমিতির জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাকে আজ শুক্রবার আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। গত কয়েকদিনের মধ্যে এই নিয়ে একাধিকবার আটক হলেন এই দুজন।

আজ বিকেলে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বা ভারতের জাতীয় পতাকা – ‘তেরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল সিজেপি। দিন কয়েক আগেই নিয়ম অমান্য করে যন্তর মন্তরে প্রবেশ ও ম্যাজিস্ট্রেটকে দেওয়া ‘পিস বন্ড’ বা শান্তি ভঙ্গ না করার লিখিত আশ্বাস ভাঙার অভিযোগ তুলে সিজেপির সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা এখন তিহার জেলে বন্দী। তারই প্রতিবাদ জানাতে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।

এই কর্মসূচিকে ঘিরে প্রথম থেকেই কড়া অবস্থান নিয়েছিল পুলিশ-প্রশাসন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আজ বিকেলে সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপক দিল্লির ঝান্ডেওয়ালানে তার বাড়ি থেকে বের হয়ে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ (জাতীয় পতাকা ওড়াও) কর্মসূচিতে যোগ প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে এর আগেই পুলিশ তাকে আটক করে। অন্যদিকে, আইসা নেত্রী নেহা বোরা মান্ডি হাউসের কাছ থেকে মিছিল শুরু করার পরপরই পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর তাকে একটি ‘অজ্ঞাত স্থানে’ নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে তার দলের নেতা-কর্মীরা।

 

কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে বিকাল ৫টায় এই কর্মসূচির কথা থাকলেও ভারী নিরাপত্তার কারণে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেন্ট্রাল পার্কের গেটগুলো আটকে দিয়ে সেখানে ওয়াটার ক্যানন ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ, সিআরপিএফ এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়। এলাকার যানজট ও নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে এবং ১৬৩ ধারা জারির কথা উল্লেখ করে পুলিশ আগেই দীপকেকে এই কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার নোটিশ দেয়।

বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে ঝান্ডেওয়ালের থাকার জায়গা থেকে বের হওয়া মাত্রই পুলিশ অভিজিৎ দীপকেকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। সে সময় দীপকে পুলিশের এই পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সাথে আইসা সভাপতি নেহা বোরাসহ আরও বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকেও আটক করা হয়।

তবে শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখতে তাদের বিকল্প পরিকল্পনা বা ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিজেপি।

আটকের কয়েক মিনিট আগে সিজেপির মিডিয়া সমন্বয়ক বিজয় এম জানান, পুলিশ যদি অভিজিৎ দীপকেকে প্রতিবাদস্থলে পৌঁছাতে না দেয়, তবে তারা পূর্ব-পরিকল্পিত ‘প্ল্যান বি’ প্রকাশ করবেন। এর আগে ১০ অক্টোবরের আন্দোলনের সময় দীপকেসহ অন্য নেতাদের আটকের পর পূর্বে রেকর্ড করা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অজিনক্যা শিন্ডেকে সাময়িক নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার দীপকের অনুপস্থিতিতে বিকল্প পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবাদ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। আগের দফায় গ্রেফতার হওয়া সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা বর্তমানে তিহার জেলে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। প্রধান তিন নেতার অনুপস্থিতিতে সিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সংগঠিত রেখে কীভাবে আন্দোলন এগিয়ে নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

আরও পড়ুন: ইরানে ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের, গোপন তথ্য ফাঁস!

Rajniti Sangbad


আরও খবর