দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এক লাফে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।
আজ রোববার রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
নতুন ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হবে ১৩৫ টাকায়, যা এতো দিন ১১৫ টাকা ছিল। প্রতি লিটার পেট্রোলের নতুন দাম ১৬০ টাকা, যা এতো দিন ১৪০ টাকা ছিল। প্রতি লিটার অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হবে, যা এতো দিন ১৪৫ টাকা ছিল। প্রতি লিটার কেরোসিনের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫৫ টাকা, যা এতো দিন ছিল ১৩৫ টাকা।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ, ২০২৬ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্য ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এখনো অব্যাহত আছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেলেও সরকার জনস্বার্থে দেশে মূল্য বৃদ্ধি করেনি। ফলে মার্চ, ২০২৬ থেকে আগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত বিপিসি’র প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ দশমিক ৬৬ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সরকার গত ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে ডিজেলের মূল্য লিটার প্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি করে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি সত্ত্বেও বিগত ৫ মাস দেশে তেলের মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় জ্বালানি তেলের মূল্য বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। বর্তমানে ডিজেলের মূল্য ভারতে (কলকাতা) ১৩৪.৭৬ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪.৮৩ টাকা, নেপালে ১৬১.২৪ টাকা, শ্রীলংকায় ১৭৯.৪২ টাকা, থাইল্যান্ডে ১৫১.২২ টাকা, ভিয়েতনামে ১৩৭.০০ টাকা, মালদ্বীপে ১৪০.৭১ টাকা, ফিলিপাইনে ১৬৮.৫৩ টাকা, পাকিস্তানে ১৮৫.৪৮ টাকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৪৪.৭৯ টাকা।
মন্ত্রণালয় বলেছে, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য অনুযায়ী ডিজেলে বিপিসির লিটারপ্রতি লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। সে হিসাবে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। চলতি ধারা অব্যাহত থাকলে শুধু ডিজেলে বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হবে।
আরও পড়ুন: ন্যাম ভবন থেকে এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
