, | |

মূলপাতা বিএনপি

চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ৪৯ বছরে পা রাখলো বিএনপি


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, ঢাকা প্রকাশের সময় :১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০৭ : পূর্বাহ্ণ

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ ১ সেপ্টেম্বর। ১৯৭৮ সালের এই দিনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ আত্মপরিচয়ের ’যূথবদ্ধ শক্তিমঞ্চ’ হিসেবে এই দল গঠন করেন। সেদিন পড়ন্ত বিকেলে রাজধানীর রমনা বটমূলে একটি ছোট টেবিল, গোটা সাতেক চেয়ার আর কিছু সাংবাদিক নিয়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। নানা লড়াই, সংগ্রাম, চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দলটি ৪৮ বছরে পা দিলো দেশের অন্যতম শীর্ষ এই রাজনৈতিক দল।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন জিয়াউর রহমান, এরপর তার সহধর্মিণী খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে তাদের ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতার ধারণাকে সামনে রেখে দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মসূচিতে ছিল ১৯ দফা।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপর নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে আসেন তারই সহধর্মিণী খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালের ১৩ জানুয়ারি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে খালেদা জিয়ার আত্মপ্রকাশ হয়। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে খালেদা জিয়া দলের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান হন এবং ১৯৮৪ সালের ১০ মে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান হত্যার পর দলের নেতৃত্বে আসেন খালেদা জিয়া। তার নেতৃত্বে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে জয়ী হয়ে ১৯৯১ সালে বিএনপি বিপুল সমর্থনে সরকার গঠন করে। এরপর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে। কিন্তু আওয়ামী লীগসহ বিরোধী দলগুলোর প্রতিবাদে মাত্র ৪৫ দিন টিকতে পারে সেই সরকার। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে জিতে আবারও সরকার গঠন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট। ওই সরকারই ছিল বিএনপির শেষ রাষ্ট্র ক্ষমতা।
এরপর দলটি দীর্ঘ সময় কাটিয়েছে আন্দোলনের রাজনীতিতে। ২০০৭ সাল থেকে টানা ১৯ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে ছিল বিএনপি। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন এবং বিদেশে চিকিৎসা নিতে নির্বাসিত হন। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি ১৭ বছর পর দেশে ফেরেন। এর আগে তিনি ২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে যখন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দি হন, তখন তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়।

 

গত দেড় যুগ ধরে সবচেয়ে ভয়াবহ ক্রান্তিকাল পেরিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর এক অসামান্য সুবর্ণ সময়ের পটভূমিতে ফিরে এসেছে বিএনপি।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগের পর শর্তসাপেক্ষে তাকে মুক্তি দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। তবে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি ছিলেন গৃহবন্দি। মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশি রায়ে সাড়ে ৬ বছর কারারুদ্ধ থাকার পর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পান খালেদা জিয়া।

আধো আলোর স্যাঁতসেঁতে কারা প্রকোষ্টে থেকে পর্যাপ্ত চিকিত্সাহীনতায় গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়া কিছুদিন দেশ-বিদেশে উন্নত চিকিত্সা পেলেও গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ভোরে ইন্তেকাল করেন। তার জানাজায় সর্বকালের সবচেয়ে বেশি মানুষের উপস্থিতি অনন্তকাল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে উত্কীর্ণ থাকবে। বেগম খালেদা জিয়া তার সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন। চার বার রাষ্ট্র পরিচালনায় দেশকে দিয়ে গেছেন শান্তি-সমৃদ্ধি আর উন্নয়নের অভূতপূর্ব ম্যাজিক। সেই ম্যাজিক এখন তার সুযোগ্য আত্মজ তারেক রহমানের হাতে।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যান পদ শূন্য হলে স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে তারেক রহমান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। এর মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায়ে আসে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। সুদূর লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে দীর্ঘ সময় চরম প্রতিকূলতার পাটাতনে বসে দলের কান্ডারী তারেক রহমান তার বিচক্ষণতা, দূরদৃষ্টি, অসম সাংগঠনিক দক্ষতায় বিএনপিকে তৃণমূল শক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন। নিজেকে সততা-দক্ষতা-জনপ্রিয়তার সর্ব শিখরে স্থাপন করেছেন। যার ফল এসেছে জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়।

আরও পড়ুন: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

Rajniti Sangbad


আরও খবর