দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাংলাদেশিদের জন্য আবারও খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কর্মী পাঠাতে পারবে ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সি। সরকারের বিশেষ অনুরোধে প্রথম ধাপে ১০ হাজার কর্মীকে বিমান ভাড়াসহ কোনো খরচ ছাড়াই নিয়ে যেতে রাজি হয়েছে মালয়েশিয়া।
গতকাল শুক্রবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রথম ধাপে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মীদের মালয়েশিয়া পাঠানো হবে। ৩৩৮ এজেন্সির মধ্যে ২৫টিকে মালয়েশিয়া সরকার নির্বাচিত করেছে। আরও ৩১২টি এজেন্সি অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি হিসেবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাবে। একমাত্র সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলও এ প্রক্রিয়ায় কাজ করবে।
শ্রমবাজার দ্রুত চালুর লক্ষ্যে অনুমোদিত ১৬টি মেডিক্যাল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হবে। তবে কর্মী পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তাই আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কোনো আর্থিক লেনদেন, মেডিক্যাল টেস্ট বা পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ছয় মাস ধরে বাংলাদেশ সরকারের ধারাবাহিক অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ বিবেচনায় মালয়েশিয়া এ সুযোগ দিয়েছে। দেশটির মানবসম্পদ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো যাচাই-বাছাই করেছে। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই।
শ্রমবাজার দ্রুত চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান মেডিক্যাল সেন্টারগুলো পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধিদল সরেজমিন বাংলাদেশে এসে প্রতিটি মেডিক্যাল সেন্টার পরিদর্শনের পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।
শ্রমবাজার চালুর পাশাপাশি মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে যাচাই-বাছাই করে মেডিক্যাল সেন্টারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করবে।
কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে অতীতের সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করা, সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কাজে যোগদান এবং মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়মিত বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
অভিবাসন সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক স্থাপন করা হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনও প্রক্রিয়াধীন। এ বিষয়ে যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। তাই মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত কোনও ধরনের আর্থিক লেনদেন, মেডিক্যাল টেস্ট বা পাসপোর্ট জমা না দিতে বলা হয়েছে।
২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের দায়িত্ব এককভাবে মালয়েশিয়া সরকারের ওপর ন্যস্ত করা হয়। ওই সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মেয়াদ শেষ হলে নতুন সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে রিক্রুটিং এজেন্সি অনুমোদনে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হবে বলে তারা আশাবাদী।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে মালয়েশিয়ার আইনি শর্ত ও নীতিমালার সঙ্গে সমন্বয় রেখে বাংলাদেশের স্বার্থ এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কল্যাণে সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হলে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং জাতীয় অর্থনীতি আরও সুদৃঢ় হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
