দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাভুটি দেখতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, যার ফল এক সপ্তাহ আগেই সবার জানা। গত সাতটি নির্বাচনে একজন করে প্রার্থী থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এবার প্রতিদ্বন্দ্বী দুজন হলেও ভোট হবে নিয়মরক্ষার।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট চলবে। ভোট দেবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতাসহ সংসদের সদস্যরা। সংসদ কক্ষে এ নির্বাচন পরিচালনা করবেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আজ বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
তবে এক-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠন করা বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন তা একেবারেই নিশ্চিত, কারণ সংসদ সদস্যদের দলের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপ্রধান হতে এখন বাকি কেবল আনুষ্ঠানিকতা।
সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। আর সংরক্ষিত আসনে এমপি আছেন ৫০ জন। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদে ৩৪৯ জন এমপি রয়েছেন, যারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। এর মধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য ২৪৭ জন, আর জামায়াতের ৭৭ জন। এছাড়া স্বতন্ত্র ৮ জন, এনসিপির ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১ জন, বিজেপির ১ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১ জন, গণপরিষদের ১ জন, খেলাফত মজলিসের ১ জন এবং জাগপার ১ জন সদস্য রয়েছেন সংসদে।
নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সংসদ কক্ষে তিনটি ভোট কাউন্টারে তিনটি ব্যালট বাক্স থাকবে। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে থাকবেন। ভোটারদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হবে। সংসদ সদস্য বা ভোটাররা ব্যালটে ভোট দিয়ে তা ফেলবেন কাছের ব্যালট বাক্সে।
সংসদীয় পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকায় কেবল সেবারই ভোটাভুটি হয়। তখন প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে আব্দুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী দলীয় ১৭০ জন ও স্বতন্ত্র দুজন মিলে মোট ভোট পেয়েছিলেন ১৭২টি। আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট। জামায়াত, সিপিবি ভোটে বিরত থাকে, আর জাপা সেই নির্বাচন বর্জন করে।
আরও পড়ুন: বিদায়ী বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল, চাইলেন ক্ষমা
