ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিতর্কিত যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহানীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আজ বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক ছয়টি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার (বর্তমানে পুলিশ সুপার) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে উদ্দেশ করে তার কথিত ‘স্যার, একটা গুলি করলে একটাই মরে’ মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
বরখাস্ত হওয়া অন্য কর্মকর্তারা হলেন-ডিএমপির সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার (পিপিএম) মো. গোলাম রুহানী। গোলাম রুহানী ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর ছোট ভাই।
সরকারি আদেশ অমান্য করে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া এবং ‘পলায়ন’-এর অভিযোগে তাদের বরখাস্ত (চাকরিচ্যুত) করেছে সরকার।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড গোয়েন্দা-দক্ষিণ) বিপ্লব কুমার সরকার বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কোনো ধরনের লিখিত বা মৌখিক অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই তারিখ থেকেই তার বরখাস্ত কার্যকর করা হয়েছে।
ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার এবং পরে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন ২৮ আগস্ট ২০২৪ থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধেও ‘পলায়ন’ ও ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ কমিশনার (পিপিএম) মো. গোলাম রুহানী ডিএমপি থেকে খাগড়াছড়ির এপিবিএনে বদলি হওয়ার পর ১১ আগস্ট ২০২৪ থেকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। তদন্ত এবং বিপিএসসির পরামর্শের ভিত্তিতে ১১ আগস্ট ২০২৪ থেকে কার্যকর করে তাকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী প্রত্যেক কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও প্রদান করা হয়।
পাশাপাশি অভিযোগ তদন্তে পৃথক তদন্তকারী কর্মকর্তাও নিয়োগ করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউই অভিযোগের জবাবে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করেননি।
আরও পড়ুন: বরিশালে আদালত চত্বরে বিস্ফোরণ
