সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক প্রধান আতেফ নাজিবকেও।
আজ মঙ্গলবার দামেস্কের একটি ফৌজদারি আদালত আসাদকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। অন্যদিকে, নাজিবকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
আদালত রায়ে বলেছে, ২০১১ সালে দারা প্রদেশে আসাদ সরকারের সংঘটিত অপরাধগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। সেসময়ের ওই সংঘাতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ নিহত হয়েছিল।
এপি জানিয়েছে, একই মামলায় আল-আসাদের চাচাতো ভাই আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০১১ সালে দারায় বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন নাজিব। সেই দমন-পীড়নই পরবর্তীতে বিদ্রোহ এবং গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়। রায় ঘোষণার সময় তাকে কারাগারের পোশাক পরা অবস্থায় একটি খাঁচার ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
বিচারক যখন রায় পড়ছিলেন, তখন বন্দির পোশাক পরা নাজিবকে একটি খাঁচার ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহীরা দামেস্কে প্রবেশ করার পর বাশার আল-আসাদ ও তার ভাই মাহের রাশিয়ায় পালিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে নাজিবকে আটক করা হয়। বিচারের মুখোমুখি হওয়া আসাদ সরকারের সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম উচ্চপদস্থ ব্যক্তি।
নাজিব সিরীয় সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। ২০১১ সালে আসাদ সরকারের আমলে তিনি দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের তথ্যমতে, ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় ২ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশজুড়ে তাদের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়। এরপর দেশটি ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পার হয়েছে। এ সময় পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
পতনের পর বাশার আল আসাদ রাশিয়া পালিয়ে যান এবং তার চাচাত ভাই আতেফ নাজিব ধরা পড়েন। আদালত বাশার আল আসাদের অনুপস্থিতিতেই তার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করলো।
আরও পড়ুন: মোজতবা খামেনির ভিডিও প্রকাশ
