বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণার মাত্র এক দিনের মাথায় নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। আবাসিক লাইফ লাইনে শূন্য থেকে ৫০ ও আবাসিক প্রথম ধাপের শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে নিম্ন আয়ের গ্রাহকরা আগের দামেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এ ঘোষণা দিয়েছে।
লাইফলাইন গ্রাহকদের (০-৫০ ইউনিট) জন্য ইউনিটপ্রতি প্রস্তাবিত ৬৯ পয়সা বৃদ্ধি বাতিল হওয়ায় তারা আগের রেট প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৬৩ পয়সা হারেই বিল পরিশোধ করবেন। এতে তাদের মাসে বাড়তি ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা গুণতে হবে না।
আর প্রথম ধাপের গ্রাহকদের (০-৭৫ ইউনিট) জন্য ইউনিটপ্রতি প্রস্তাবিত ৯২ পয়সা বৃদ্ধি প্রত্যাহার হওয়ায় তারা আগের দাম অনুযায়ী ইউনিটপ্রতি ৫ টাকা ২৬ পয়সা হারে বিল পরিশোধ করবেন। এর মধ্য দিয়ে তাদেরকে মাসে বাড়তি ৬৯ টাকা বিলের বোঝা থেকে রেহাই দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৬৫ শতাংশ এই দুই শ্রেণির আওতায় রয়েছে। তাই মূল্যবৃদ্ধি বহাল থাকলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতো।
নতুন দরে আবাসিক লাইফলাইন শ্রেণির গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ৫ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা আগের তুলনায় ৬৯ পয়সা বেশি। এই শ্রেণির গ্রাহকেরা মাসে সর্বোচ্চ ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। সাধারণত একটি ফ্যান ও এক বা দুটি বাতি ব্যবহারকারী নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
এ ছাড়া মাসে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিট মূল্য ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা আগের চেয়ে ৯২ পয়সা বেশি।
তবে নতুন করে মূল্য সংশোধনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের দাম আগের মতো প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৬৩ পয়সাই থাকবে। একইভাবে প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট মূল্য হবে ৫ টাকা ২৬ পয়সা।
প্রসঙ্গত, হতদরিদ্র, নিম্ন আয়ের ও সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে লাইফলাইন গ্রাহক সৃষ্টি করা হয়। একটি ৩০ ওয়াটের লাইট ও একটি ফ্যান দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ব্যবহার করেন-তেমন গ্রাহকেরা এই বিলের আওতায় পড়েন।
আরও পড়ুন: বিদ্যুতের দাম বাড়ালো সরকার, জুন থেকেই কার্যকর
