রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক
প্রকাশের সময় : ২৩ মে ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
দেশের শতবর্ষী প্রাচীন ব্যবসায়ী সংগঠন চিটাগাং চেম্বার অব কমার্সের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে ২৪ পরিচালক পদের সবকটিতেই জয় পেয়েছে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম। সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ নির্বাচন বর্জন করা সত্ত্বেও ৩৯.০২ শতাংশ ভোট পড়েছে। অবশ্য সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ নির্বাচন বর্জন করলেও ব্যালটে নাম থাকায় প্যানেলটির প্রার্থীদের অনেকে শতাধিক ভোট পেয়েছেন। দীর্ঘ ১৩ বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে চিটাগাং চেম্বারের নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়েছে।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে নির্বাচনী ফল ঘোষণা করেন নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম। এর আগে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে আজ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
চিটাগাং চেম্বারের চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচন হয়েছে অর্ডিনারি ক্যাটাগরির ১২টি পরিচালক পদ ও অ্যাসোসিয়েট ক্যাটাগরির ৬টি পরিচালক পদে। দুটি ক্যাটাগরির ১৮টি পরিচালক পদেই জয় পেয়েছেন ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম প্যানেলের প্রার্থীরা।
অর্ডিনারি ও অ্যাসোসিয়েট গ্রুপে ভোটাভুটি হলেও টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ ক্যাটাগরি থেকে তিনজন করে মোট ৬ জন পরিচালক প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তারা ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম প্যানেলের প্রার্থী।
জানা গেছে, চেম্বারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৬ হাজার ৭৬৫ জন। এর মধ্যে অর্ডিনারি গ্রুপে ৪ হাজার জন আর অ্যাসোসিয়েট গ্রুপে ২ হাজার ৭৬৪ জন। এর মধ্যে অর্ডিনারি গ্রুপে ভোট পড়েছে ৮৮২টি আর অ্যাসোসিয়েট গ্রুপে ভোট পড়েছে ১ হাজার ৮৪৩টি।
জানা গেছে, সোমবার (২৫ মে) সকালে চেম্বারের প্রেসিডিয়াম (সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি ও সহসভাপতি) গঠন হবে। তবে প্রেসিডিয়াম গঠনের আগেই ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয় চট্টগ্রামের খ্যাতনামা শিল্পপ্রতিষ্ঠান সীকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিরুল হককে। তিনি ভোটের আগেই ট্রেড গ্রুপ ক্যাটাগরি থেকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তবে সিনিয়র সহসভাপতি ও সহসভাপতি কে হচ্ছেন তা জানা যায়নি।
ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের পরিচালক প্রার্থীরা কে কত ভোট পেলেন?
নির্বাচনে অর্ডিনারি গ্রুপ থেকে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন রাজা কর্পোরেশনের স্বত্ত্বাধিকারী কামাল মোস্তফা চৌধুরী। তিনি ১ হাজার ৪০৫ ভোট পেয়েছেন। আর অ্যাসোসিয়েট গ্রুপ থেকে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন জার ট্রেডের স্বত্ত্বাধিকারী মো. জাহিদুল হাসান। তিনি ৬৮৭ ভোট পেয়েছেন। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে-
অর্ডিনারি গ্রুপ
এএসএম ইসমাইল খান ১ হাজার ৩৭৪ ভোট, আবু হায়দার চৌধুরী ১ হাজার ৩৬৪ ভোট, মো. আমজাদ হোসাইন চৌধুরী ১ হাজার ৩৫২ ভোট, নাসির উদ্দিন চৌধুরী ১ হাজার ৩২১ ভোট, আসাদ ইফতেখার ১ হাজার ৩০৬ ভোট, আমান উল্লা আল ছগির ১ হাজার ২৭৭ ভোট, মো. গোলাম সরওয়ার ১ হাজার ২৫৯ ভোট, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ১ হাজার ২৫৯ ভোট, মোহাম্মদ শফিউল আলম ১ হাজার ২৪৯ ভোট, মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী ১ হাজার ২১১ ভোট এবং শহিদুল আলম পেয়েছেন ১ হাজার ২০৯ ভোট।
অ্যাসোসিয়েট গ্রুপ
মো. নুরুল ইসলাম ৬৬১ ভোট, মো. সেলিম নুর ৬৪৬ ভোট, সরোয়ার আলম খান ৬৪১ ভোট, মোহাম্মদ মশিউল আলম ৬৩২ ভোট এবং মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ পেয়েছেন ৬১৮ ভোট।
সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ থেকে কে কত ভোট পেলেন?
অর্ডিনারি গ্রুপ থেকে আহম্মেদ রশিদ আমু ২৬৬ ভোট, জসিম উদ্দিন চৌধুরী ২৪২ ভোট, মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পাটোয়ারি ২৩৬ ভোট, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল ২৩২ ভোট, মোহাম্মদ মুসা ২০৬ ভোট, এটিএম রেজাউল করিম ১৮০ ভোট, মোহাম্মদ রাশেদ আলী ১৬৮ ভোট, আরিফ হোসাইন ১৩৪ ভোট, মোহাম্মদ আজিজুল হক ১১৬ ভোট, এমাদ এরশাদ ১১৬ ভোট, কাজী ইমরান এফ রহমান ৯৯ ভোট এবং আবছার হোসাইন পেয়েছেন ৯৬ ভোট।
অ্যাসোসিয়েট গ্রুপ থেকে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের প্যানেল লিডার এস এম নুরুল হক ১৭১ ভোট, কামরুল হুদা ১৫৩ ভোট, মোহাম্মদ আইয়ুব ১৯৬ ভোট, মোস্তাক আহম্মেদ চৌধুরী ১১২ ভোট, এস এম কামাল উদ্দিন ১২৩ ভোট এবং মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৯২ ভোট।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ব্যবসায়ীদের মিলনমেলা
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, কাঠফাটা রোদ উপেক্ষা করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভোট দিতে ছুটে আসেন ব্যবসায়ীরা। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ব্যবসায়ীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ ভোট বর্জন করলেও নির্বাচন ছিল উৎসবমুখর। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম প্যানেলের পাশাপাশি তিনজন স্বতন্ত্র পরিচালক প্রার্থীর নির্বাচনী বুথও ছিল। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার থেকে শুরু করে আগ্রাবাদ পর্যন্ত ভোটের আমেজ ছিল।
উৎসাহ-উদ্দীপনা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দেন ব্যবসায়ীরা। কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা হয়নি। ব্যবসায়ীরা সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট প্রদান করেন।
ভোট দেওয়ার পর পিএইচপি ফ্যামিলির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ব্যবসায়ী কমিউনিটিতে চিটাগাং চেম্বার অনেক অবদান রাখে। দীর্ঘ ১৩ বছর নির্বাচন না হওয়ায় ব্যবসায়ীদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। আশা করছি, চেম্বারের নতুন নেতৃত্ব ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ নিরসনে ভূমিকা রাখবে।’
দেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিকারক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘দীর্ঘ ১৩ বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে চেম্বারের নির্বাচন হয়েছে। তবে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ ভোট বর্জন না করলে নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হতো।’
চিটাগাং চেম্বারের সাবেক এই পরিচালক বলেন, ‘চেম্বার প্রায় ২০ মাস ধরে নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় ছিল। এতে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। আশা করছি, চেম্বারের নতুন নেতৃত্ব ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে কার্যকর পদক্ষেপ নেবনে।’
আরও পড়ুন:
শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচনে নাটকীয় মোড়!
চট্টগ্রাম সিটির মেয়র পদে বিএনপিতে আলোচনায় দুই নাম
